(+91) 8617491831

contact@topperhq.com

A SARDAR

WBBSE Class 9 History Chapter 6 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর প্রশ্ন উত্তর | নবম শ্রেণির ইতিহাস

October 1, 2026

Class 9 History Chapter 6 Question Answer: WBBSE নবম শ্রেণির ইতিহাসের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর’-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর এখানে দেওয়া হয়েছে। এই পোস্টে ১ নম্বরের MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর, ৪ ও ৮ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন, বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন এবং শেষ মুহূর্তের Revision Questions একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

এই অধ্যায়টি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানে ১ নম্বরের MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ২ নম্বরের প্রশ্নোত্তর, ৪ ও ৮ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর, বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন এবং শেষ মুহূর্তের Revision Questions একসঙ্গে দেওয়া হল।


Table of Contents

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর — সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভার্সাই সন্ধি, অর্থনৈতিক সংকট, ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান, জাতিসংঘের পূর্বসূরি লীগ অব নেশনস-এর ব্যর্থতা, তোষণ নীতি এবং জার্মানির আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি ইউরোপে নতুন যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে।

১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। পরে যুদ্ধ ইউরোপের বাইরে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৫ সালে অক্ষশক্তির পরাজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটে।

যুদ্ধের পর পৃথিবীর রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে আসে। এর ফলে শুরু হয় ঠান্ডা লড়াই বা Cold War।


১ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ MCQ

১. ভার্সাই সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়—

ক) ১৯১৪ সালে
খ) ১৯১৮ সালে
গ) ১৯১৯ সালে
ঘ) ১৯২১ সালে

উত্তর: গ) ১৯১৯ সালে

২. ভার্সাই সন্ধি কার সঙ্গে জার্মানির হয়?

ক) ফ্রান্স
খ) মিত্রশক্তি
গ) ইতালি
ঘ) রাশিয়া

উত্তর: খ) মিত্রশক্তি

৩. জার্মানিতে নাৎসি দলের নেতা ছিলেন—

ক) মুসোলিনি
খ) হিটলার
গ) স্ট্যালিন
ঘ) চার্চিল

উত্তর: খ) হিটলার

৪. ইতালিতে ফ্যাসিবাদের নেতা ছিলেন—

ক) হিটলার
খ) মুসোলিনি
গ) রুজভেল্ট
ঘ) স্ট্যালিন

উত্তর: খ) মুসোলিনি

৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়—

ক) ১৯৩৭ সালে
খ) ১৯৩৮ সালে
গ) ১৯৩৯ সালে
ঘ) ১৯৪১ সালে

উত্তর: গ) ১৯৩৯ সালে

৬. জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে—

ক) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
খ) ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
গ) ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১
ঘ) ৬ জুন ১৯৪৪

উত্তর: ক) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯

৭. ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে—

ক) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
খ) ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
গ) ২৩ আগস্ট ১৯৩৯
ঘ) ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১

উত্তর: খ) ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯

৮. জার্মানি ও সোভিয়েত রাশিয়ার মধ্যে অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়—

ক) ১৯৩৬ সালে
খ) ১৯৩৮ সালে
গ) ১৯৩৯ সালে
ঘ) ১৯৪১ সালে

উত্তর: গ) ১৯৩৯ সালে

৯. মিউনিখ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়—

ক) ১৯৩৬ সালে
খ) ১৯৩৮ সালে
গ) ১৯৩৯ সালে
ঘ) ১৯৪০ সালে

উত্তর: খ) ১৯৩৮ সালে

১০. তোষণ নীতি মূলত কার প্রতি অনুসরণ করা হয়েছিল?

ক) জার্মানি
খ) জাপান
গ) সোভিয়েত রাশিয়া
ঘ) পোল্যান্ড

উত্তর: ক) জার্মানি

১১. জার্মানি সোভিয়েত রাশিয়া আক্রমণ করে—

ক) ১৯৩৯ সালে
খ) ১৯৪০ সালে
গ) ১৯৪১ সালে
ঘ) ১৯৪২ সালে

উত্তর: গ) ১৯৪১ সালে

১২. পার্ল হারবার আক্রমণ করে—

ক) জার্মানি
খ) ইতালি
গ) জাপান
ঘ) সোভিয়েত রাশিয়া

উত্তর: গ) জাপান

১৩. পার্ল হারবার আক্রমণ হয়—

ক) ৬ আগস্ট ১৯৪৫
খ) ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১
গ) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
ঘ) ৯ আগস্ট ১৯৪৫

উত্তর: খ) ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১

১৪. পার্ল হারবার আক্রমণের ফলে যুদ্ধে যোগ দেয়—

ক) ফ্রান্স
খ) আমেরিকা
গ) ইতালি
ঘ) স্পেন

উত্তর: খ) আমেরিকা

১৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন—

ক) ট্রুম্যান
খ) রুজভেল্ট
গ) চার্চিল
ঘ) স্ট্যালিন

উত্তর: খ) রুজভেল্ট

১৬. সোভিয়েত রাশিয়ার নেতা ছিলেন—

ক) স্ট্যালিন
খ) হিটলার
গ) মুসোলিনি
ঘ) রুজভেল্ট

উত্তর: ক) স্ট্যালিন

১৭. ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকালীন নেতা ছিলেন—

ক) চার্চিল
খ) স্ট্যালিন
গ) হিটলার
ঘ) মুসোলিনি

উত্তর: ক) চার্চিল

১৮. হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়—

ক) ৬ আগস্ট ১৯৪৫
খ) ৯ আগস্ট ১৯৪৫
গ) ৮ মে ১৯৪৫
ঘ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫

উত্তর: ক) ৬ আগস্ট ১৯৪৫

১৯. নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়—

ক) ৬ আগস্ট ১৯৪৫
খ) ৯ আগস্ট ১৯৪৫
গ) ১৫ আগস্ট ১৯৪৫
ঘ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫

উত্তর: খ) ৯ আগস্ট ১৯৪৫

২০. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে—

ক) ১৯৪৩ সালে
খ) ১৯৪৪ সালে
গ) ১৯৪৫ সালে
ঘ) ১৯৪৬ সালে

উত্তর: গ) ১৯৪৫ সালে

২১. জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়—

ক) ১৯৩৯ সালে
খ) ১৯৪১ সালে
গ) ১৯৪৫ সালে
ঘ) ১৯৪৯ সালে

উত্তর: গ) ১৯৪৫ সালে

২২. জাতিসংঘের সদর দপ্তর কোথায়?

ক) লন্ডন
খ) প্যারিস
গ) নিউইয়র্ক
ঘ) জেনেভা

উত্তর: গ) নিউইয়র্ক

২৩. NATO প্রতিষ্ঠিত হয়—

ক) ১৯৪৫ সালে
খ) ১৯৪৭ সালে
গ) ১৯৪৯ সালে
ঘ) ১৯৫৪ সালে

উত্তর: গ) ১৯৪৯ সালে

২৪. NATO-এর পূর্ণরূপ কী?

ক) North Atlantic Treaty Organization
খ) National Atlantic Treaty Organization
গ) North Asian Treaty Organization
ঘ) New Atlantic Treaty Organization

উত্তর: ক) North Atlantic Treaty Organization

২৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে—

ক) ব্রিটেন ও ফ্রান্স
খ) আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন
গ) জার্মানি ও ইতালি
ঘ) জাপান ও চীন

উত্তর: খ) আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন

২৬. আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনাকে বলা হয়—

ক) বিশ্বযুদ্ধ
খ) ঠান্ডা লড়াই
গ) সাম্রাজ্যবাদ
ঘ) ফ্যাসিবাদ

উত্তর: খ) ঠান্ডা লড়াই

২৭. SEATO প্রতিষ্ঠিত হয়—

ক) ১৯৪৫ সালে
খ) ১৯৪৯ সালে
গ) ১৯৫৪ সালে
ঘ) ১৯৬০ সালে

উত্তর: গ) ১৯৫৪ সালে


১ নম্বরের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ভার্সাই সন্ধি কবে স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর: ১৯১৯ সালে।

২. জার্মানির নাৎসি দলের নেতা কে ছিলেন?

উত্তর: অ্যাডলফ হিটলার।

৩. ইতালির ফ্যাসিস্ট নেতা কে ছিলেন?

উত্তর: বেনিতো মুসোলিনি।

৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কবে শুরু হয়?

উত্তর: ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে।

৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাৎক্ষণিক কারণ কী?

উত্তর: জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণ।

৬. জার্মানি কবে পোল্যান্ড আক্রমণ করে?

উত্তর: ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯।

৭. ব্রিটেন ও ফ্রান্স কবে জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে?

উত্তর: ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯।

৮. মিউনিখ চুক্তি কবে হয়?

উত্তর: ১৯৩৮ সালে।

৯. তোষণ নীতি কী?

উত্তর: যুদ্ধ এড়ানোর উদ্দেশ্যে আগ্রাসী রাষ্ট্রের কিছু দাবি মেনে নেওয়ার নীতিই তোষণ নীতি।

১০. মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি কী?

উত্তর: ১৯৩৯ সালে জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত অনাক্রমণ চুক্তি।

১১. জার্মানি কবে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে?

উত্তর: ২২ জুন ১৯৪১।

১২. পার্ল হারবার কোথায়?

উত্তর: হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে।

১৩. পার্ল হারবার আক্রমণ করে কোন দেশ?

উত্তর: জাপান।

১৪. পার্ল হারবার আক্রমণ কবে হয়?

উত্তর: ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১।

১৫. পার্ল হারবার আক্রমণের পর কোন দেশ যুদ্ধে যোগ দেয়?

উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

১৬. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা কে ছিলেন?

উত্তর: জোসেফ স্ট্যালিন।

১৭. হিরোশিমায় বোমা নিক্ষেপ করা হয় কবে?

উত্তর: ৬ আগস্ট ১৯৪৫।

১৮. নাগাসাকিতে বোমা নিক্ষেপ করা হয় কবে?

উত্তর: ৯ আগস্ট ১৯৪৫।

১৯. জাতিসংঘ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৪৫ সালে।

২০. জাতিসংঘের সদর দপ্তর কোথায়?

উত্তর: নিউইয়র্কে।

২১. ঠান্ডা লড়াই কী?

উত্তর: আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই চলা দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, সামরিক ও আদর্শগত সংঘাতকে ঠান্ডা লড়াই বলা হয়।

২২. NATO কী?

উত্তর: North Atlantic Treaty Organization বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা।

২৩. NATO কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৪৯ সালে।

২৪. SEATO-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর: Southeast Asia Treaty Organization।

২৫. দ্বিমেরু বিশ্ব বলতে কী বোঝ?

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে বিশ্বের শক্তিবিন্যাস গড়ে ওঠাকে দ্বিমেরু বিশ্ব বলা হয়।


২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১. ভার্সাই সন্ধিকে ‘আরোপিত শান্তি’ বলা হয় কেন?

উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানির ওপর বিজয়ী মিত্রশক্তি কঠোর শর্ত চাপিয়ে দেয়। জার্মানির মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই ভার্সাই সন্ধিকে জার্মানির কাছে একটি আরোপিত বা dictated peace বলা হয়।

২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ভার্সাই সন্ধিকে কেন ধরা হয়?

উত্তর: ভার্সাই সন্ধির ফলে জার্মানির ওপর সামরিক, অর্থনৈতিক ও ভূখণ্ডগত নানা কঠোর শর্ত চাপানো হয়। এতে জার্মান জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও অপমানবোধ তৈরি হয়। হিটলার এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলেন।

৩. ফ্যাসিবাদ কী?

উত্তর: ফ্যাসিবাদ হল একনায়কতান্ত্রিক ও চরম জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক মতবাদ। এতে গণতন্ত্রের পরিবর্তে শক্তিশালী একনায়কের শাসন, সামরিক শক্তি ও রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৪. নাৎসিবাদ কী?

উত্তর: হিটলারের নেতৃত্বে জার্মানিতে গড়ে ওঠা চরম জাতীয়তাবাদী, বর্ণবাদী ও একনায়কতান্ত্রিক মতবাদকে নাৎসিবাদ বলা হয়।

৫. মুসোলিনি ও হিটলারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা কেন গড়ে উঠেছিল?

উত্তর: মুসোলিনি ও হিটলার উভয়েই একনায়কতন্ত্র, চরম জাতীয়তাবাদ ও সামরিক শক্তির ওপর গুরুত্ব দিতেন। তাদের পররাষ্ট্রনীতিতেও আগ্রাসী মনোভাব ছিল। এই মতাদর্শগত মিল থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

৬. জার্মানি লীগ অব নেশনস ত্যাগ করেছিল কেন?

উত্তর: হিটলার জার্মানির ওপর আরোপিত ভার্সাই সন্ধির শর্তগুলি অস্বীকার করতে চেয়েছিলেন এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও স্বাধীনভাবে আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। তাই ১৯৩৩ সালে জার্মানি লীগ অব নেশনস ত্যাগ করে।

৭. অক্ষশক্তি বলতে কী বোঝ?

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি, ইতালি ও জাপানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শক্তিজোটকে অক্ষশক্তি বলা হয়।

৮. মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তির গুরুত্ব কী?

উত্তর: ১৯৩৯ সালে জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এই অনাক্রমণ চুক্তি হয়। এর ফলে হিটলার সাময়িকভাবে পূর্ব দিকের সংঘাতের আশঙ্কা কমিয়ে পোল্যান্ড আক্রমণের দিকে এগোতে সক্ষম হন।

৯. তোষণ নীতি কেন গ্রহণ করা হয়েছিল?

উত্তর: ব্রিটেন ও ফ্রান্স নতুন একটি বড় যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিল। তারা মনে করেছিল জার্মানির কিছু দাবি মেনে নিলে হিটলারকে শান্ত রাখা সম্ভব হবে। এই উদ্দেশ্যেই তোষণ নীতি গ্রহণ করা হয়।

১০. মিউনিখ চুক্তির গুরুত্ব কী?

উত্তর: ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির মাধ্যমে জার্মানিকে চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতেনল্যান্ড অঞ্চল দখলের সুযোগ দেওয়া হয়। এটি তোষণ নীতির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ এবং হিটলারের আগ্রাসনকে উৎসাহিত করেছিল।

১১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাৎক্ষণিক কারণ কী?

উত্তর: ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর প্রতিবাদে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

১২. আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয় কেন?

উত্তর: ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবার আক্রমণ করে। এই আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যোগ দেয়।

১৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের যোগদানের কারণ কী?

উত্তর: ১৯৪১ সালের ২২ জুন জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে। ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন মিত্রশক্তির পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে প্রবেশ করে।

১৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুটি ফল লেখো।

উত্তর:
১. জার্মানি, ইতালি ও জাপানের পরাজয় ঘটে।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রধান বিশ্বশক্তি হিসেবে উঠে আসে।

১৫. ঠান্ডা লড়াই বলতে কী বোঝ?

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও আদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়। সরাসরি যুদ্ধ না হওয়ায় এই সংঘাতকে ঠান্ডা লড়াই বলা হয়।


৪ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণগুলি লেখো।

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণগুলি হল—

১. ভার্সাই সন্ধির কঠোরতা: জার্মানির ওপর কঠোর শর্ত চাপানো হয়েছিল। এর ফলে জার্মানদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

২. ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান: ইতালি ও জার্মানিতে একনায়কতান্ত্রিক শক্তির উত্থান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে।

৩. লীগ অব নেশনস-এর ব্যর্থতা: আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে লীগ ব্যর্থ হয়।

৪. তোষণ নীতি: ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তোষণ নীতি হিটলারের আগ্রাসী নীতিকে উৎসাহিত করে।

৫. জার্মানির আগ্রাসী নীতি: হিটলার ভার্সাই সন্ধির শর্ত ভেঙে জার্মানির সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং একের পর এক অঞ্চল দখল করতে থাকেন।

৬. পোল্যান্ড আক্রমণ: ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণ যুদ্ধের তাৎক্ষণিক কারণ হয়ে ওঠে।


২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্রে ভার্সাই সন্ধির ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর: ভার্সাই সন্ধি জার্মানির ওপর কঠোর রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক শর্ত চাপিয়ে দেয়। জার্মানির সামরিক শক্তি সীমিত করা হয় এবং তাকে বিপুল ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এর ফলে জার্মান জনগণের মধ্যে অপমান ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

হিটলার এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে জার্মান জাতীয়তাবাদকে উসকে দেন। তিনি ভার্সাই সন্ধির শর্ত ভেঙে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং জার্মানির হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের নামে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেন। তাই ভার্সাই সন্ধি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি তৈরি করেছিল।


৩. তোষণ নীতি কী? এর ফলাফল কী হয়েছিল?

উত্তর: যুদ্ধ এড়ানোর উদ্দেশ্যে জার্মানি ও ইতালির মতো আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলির কিছু দাবি মেনে নেওয়ার নীতিকে তোষণ নীতি বলা হয়।

ব্রিটেন ও ফ্রান্স এই নীতি অনুসরণ করেছিল। ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তি এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

এর ফলে—

  • হিটলার আরও সাহসী হয়ে ওঠেন।
  • জার্মানির আগ্রাসী নীতি বৃদ্ধি পায়।
  • ইউরোপে শান্তি স্থায়ী হয়নি।
  • শেষ পর্যন্ত জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা কীভাবে যোগ দেয়?

উত্তর: যুদ্ধের প্রথমদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি। কিন্তু ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপান হাওয়াইয়ের পার্ল হারবারে মার্কিন নৌঘাঁটিতে আকস্মিক আক্রমণ চালায়।

এর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। পরে জার্মানি ও ইতালিও আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। আমেরিকার অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি মিত্রশক্তির জয়কে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রভাবিত করে।


৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান ফলাফলগুলি লেখো।

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

১. অক্ষশক্তির পরাজয় ঘটে।
২. জার্মানি, ইতালি ও জাপানের সামরিক শক্তি ভেঙে পড়ে।
৩. ইউরোপের অর্থনীতি ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুতি ঘটে।
৫. উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হয়।
৬. আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রধান বিশ্বশক্তি হিসেবে উঠে আসে।
৭. জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
৮. বিশ্ব রাজনীতিতে ঠান্ডা লড়াইয়ের সূচনা হয়।


৬. কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঔপনিবেশিকতার পতন ত্বরান্বিত হয়?

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে এশিয়া ও আফ্রিকার জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়।

যুদ্ধের পর স্বাধীনতার দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার ধারণাও উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনকে উৎসাহ দেয়। ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশ ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জন করে।


৮ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ১৯৩৯ সালে শুরু হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক কারণ কাজ করেছিল।

ভার্সাই সন্ধির কঠোরতা:

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ওপর ভার্সাই সন্ধির মাধ্যমে কঠোর শর্ত চাপানো হয়। এর ফলে জার্মান জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও অপমানবোধ জন্ম নেয়।

ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান:

ইতালিতে মুসোলিনির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদ এবং জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসিবাদের উত্থান ঘটে। উভয় মতবাদই সামরিক শক্তি ও আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের ওপর গুরুত্ব দেয়।

আগ্রাসী নীতি:

আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত লীগ অব নেশনস আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলে জার্মানি, ইতালি ও জাপান আগ্রাসী নীতি গ্রহণে উৎসাহিত হয়।

অর্থনৈতিক সংকট:

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। জার্মানিতে এই পরিস্থিতি হিটলারের উত্থানের পথ প্রশস্ত করে।

তোষণ নীতি:

ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধ এড়ানোর উদ্দেশ্যে হিটলারের কিছু দাবি মেনে নেয়। কিন্তু এতে হিটলার আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন।

জার্মানির আগ্রাসী নীতি:

হিটলার ভার্সাই সন্ধির শর্ত ভেঙে জার্মানির সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেন। তিনি রাইনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও সুদেতেনল্যান্ডের দিকে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেন।

পোল্যান্ড আক্রমণ:

শেষ পর্যন্ত ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর ফলে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।


২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান ঘটনাগুলি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করো।

উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি ধারাবাহিকভাবে হল—

১৯৩৯: জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

১৯৪০: জার্মানি পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে সাফল্য অর্জন করে এবং ফ্রান্স পরাজিত হয়।

১৯৪১: জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে। একই বছর জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করলে আমেরিকা যুদ্ধে যোগ দেয়।

১৯৪২–৪৩: উত্তর আফ্রিকা ও পূর্ব ফ্রন্টে মিত্রশক্তি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য লাভ করে। স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ জার্মানির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৪৪: মিত্রশক্তি পশ্চিম ইউরোপে অগ্রসর হয়। নরম্যান্ডিতে মিত্রবাহিনীর অবতরণ জার্মানির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ফ্রন্টকে শক্তিশালী করে।

১৯৪৫: জার্মানি আত্মসমর্পণ করে। পরে আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। সোভিয়েত ইউনিয়নও জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশ করে। শেষ পর্যন্ত জাপান আত্মসমর্পণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে।


৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল বিশ্ব ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলে।

অক্ষশক্তির পরাজয়:

জার্মানি, ইতালি ও জাপানের পরাজয় ঘটে। তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে কমে যায়।

ইউরোপের ধ্বংস:

যুদ্ধের ফলে ইউরোপের বহু শহর, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

প্রাণহানি:

যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক সামরিক ও অসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়। বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্থান:

ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো পুরনো শক্তিগুলির তুলনায় আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই প্রধান বিশ্বশক্তি হিসেবে উঠে আসে।

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা:

ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঔপনিবেশিকতার দুর্বলতা:

যুদ্ধের পর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এশিয়া ও আফ্রিকার স্বাধীনতা আন্দোলন শক্তিশালী হয়।

ঠান্ডা লড়াইয়ের সূচনা:

আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে ঠান্ডা লড়াইয়ের যুগ শুরু হয়।


৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্থান ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ইউরোপের বহু পুরনো শক্তি অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বিপরীতে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের শক্তি ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

আমেরিকা যুদ্ধের সময় ও পরে বিপুল অর্থনৈতিক ও শিল্পশক্তির অধিকারী ছিল। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব ইউরোপে নিজের প্রভাব বাড়ায়।

ফলে যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতি মূলত দুটি শক্তিকেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠে—আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই পরিস্থিতিকে দ্বিমেরু বিশ্বব্যবস্থা বলা হয়।


৫. ঠান্ডা লড়াইয়ের কারণ ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে আদর্শগত, রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনাই ঠান্ডা লড়াই নামে পরিচিত।

কারণ

১. আদর্শগত বিরোধ: আমেরিকা পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেয়।
২. বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা: দুই শক্তিই বিভিন্ন দেশে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চেয়েছিল।
৩. সামরিক জোট: NATO-সহ বিভিন্ন সামরিক জোট গড়ে ওঠে।
৪. অস্ত্র প্রতিযোগিতা: দুই পক্ষই নিজেদের সামরিক ও পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে।

বৈশিষ্ট্য

  • সরাসরি আমেরিকা-সোভিয়েত যুদ্ধ হয়নি।
  • সামরিক জোট গড়ে ওঠে।
  • অস্ত্র প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়।
  • বিভিন্ন অঞ্চলে পরোক্ষ সংঘাত দেখা দেয়।
  • বিশ্ব রাজনীতি দুটি প্রধান শক্তিশিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

২ নম্বরের সম্ভাব্য প্রশ্ন

১. ভার্সাই সন্ধিকে আরোপিত শান্তি বলা হয় কেন?
২. ভার্সাই সন্ধি কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে?
৩. ফ্যাসিবাদ কী?
৪. নাৎসিবাদ বলতে কী বোঝ?
৫. মুসোলিনি ও হিটলারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা কেন গড়ে ওঠে?
৬. তোষণ নীতি কী?
৭. মিউনিখ চুক্তির গুরুত্ব কী?
৮. মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি কী?
৯. জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেছিল কেন?
১০. পার্ল হারবার আক্রমণের গুরুত্ব কী?
১১. আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয় কেন?
১২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুটি ফল লেখো।
১৩. ঠান্ডা লড়াই বলতে কী বোঝ?
১৪. দ্বিমেরু বিশ্ব কী?
১৫. NATO কী?

৪ নম্বরের সম্ভাব্য প্রশ্ন

১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণগুলি লেখো।
২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভার্সাই সন্ধির ভূমিকা আলোচনা করো।
৩. তোষণ নীতি ও তার ফলাফল ব্যাখ্যা করো।
৪. মিউনিখ চুক্তির গুরুত্ব আলোচনা করো।
৫. আমেরিকা কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়?
৬. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান ফলাফলগুলি লেখো।
৭. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঔপনিবেশিকতার পতনের কারণ ব্যাখ্যা করো।
৮. ঠান্ডা লড়াইয়ের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

৮ নম্বরের সম্ভাব্য প্রশ্ন

১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।
২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান ঘটনাগুলি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করো।
৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলগুলি বিশদে আলোচনা করো।
৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্থান ব্যাখ্যা করো।
৫. ঠান্ডা লড়াইয়ের কারণ ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।


শেষ মুহূর্তের Revision Questions

পরীক্ষার ঠিক আগে সময় কম থাকলে নিচের প্রশ্নগুলি অবশ্যই দেখে নাও।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০টি প্রশ্ন

১. ভার্সাই সন্ধিকে আরোপিত শান্তি বলা হয় কেন?
২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণগুলি কী?
৩. ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদ কী?
৪. লীগ অব নেশনস কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
৫. তোষণ নীতি কী?
৬. মিউনিখ চুক্তির গুরুত্ব কী?
৭. মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি কী?
৮. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাৎক্ষণিক কারণ কী?
৯. পোল্যান্ড আক্রমণের গুরুত্ব কী?
১০. জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেছিল কেন?
১১. পার্ল হারবার আক্রমণের ফল কী হয়েছিল?
১২. আমেরিকা কেন যুদ্ধে যোগ দেয়?
১৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের কারণ কী?
১৪. হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে কী ঘটেছিল?
১৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান ফলাফলগুলি কী?
১৬. জাতিসংঘ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
১৭. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঔপনিবেশিকতার পতন কীভাবে ঘটে?
১৮. আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্থান কীভাবে ঘটে?
১৯. ঠান্ডা লড়াই কী?
২০. দ্বিমেরু বিশ্ব বলতে কী বোঝ?


পরীক্ষার আগে অবশ্যই মনে রাখবে

বিষয়গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ভার্সাই সন্ধি১৯১৯
মিউনিখ চুক্তি১৯৩৮
মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি১৯৩৯
পোল্যান্ড আক্রমণ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধ ঘোষণা৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
সোভিয়েত আক্রমণ২২ জুন ১৯৪১
পার্ল হারবার৭ ডিসেম্বর ১৯৪১
হিরোশিমা৬ আগস্ট ১৯৪৫
নাগাসাকি৯ আগস্ট ১৯৪৫
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি১৯৪৫
জাতিসংঘ১৯৪৫
NATO১৯৪৯
SEATO১৯৫৪

মনে রাখার সহজ ধারাবাহিকতা

ভার্সাই → ফ্যাসিবাদ/নাৎসিবাদ → তোষণ নীতি → মিউনিখ → পোল্যান্ড আক্রমণ → দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ → পার্ল হারবার → আমেরিকার প্রবেশ → জার্মানির পরাজয় → হিরোশিমা-নাগাসাকি → জাতিসংঘ → আমেরিকা-সোভিয়েত উত্থান → ঠান্ডা লড়াই

এই ধারাবাহিকতাটি মনে রাখতে পারলে পুরো অধ্যায়টি দ্রুত Revision করা অনেক সহজ হবে।


FAQ — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর

১. NATO কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৯৪৯ সালে।

২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কবে শুরু হয়?

১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান অক্ষশক্তি কারা ছিল?

জার্মানি, ইতালি ও জাপান ছিল অক্ষশক্তির প্রধান দেশ।

৪. পার্ল হারবার আক্রমণের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কী সম্পর্ক?

১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর জাপানের পার্ল হারবার আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়।

৫. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোন দুটি দেশ প্রধান বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রধান বিশ্বশক্তি হিসেবে উঠে আসে।

৬. ঠান্ডা লড়াই কী?

আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই চলা দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামরিক ও আদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঠান্ডা লড়াই বলা হয়।

৭. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?

আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।


পরীক্ষায় ভালো উত্তর লেখার টিপস

১. উত্তর পয়েন্ট আকারে লেখো: ৪ বা ৮ নম্বরের প্রশ্নে আলাদা আলাদা পয়েন্ট দিলে পরীক্ষকের কাছে উত্তরটি সহজে বোঝা যায়।

২. সাল ও ঘটনাগুলি ঠিক রাখো: বিশেষ করে ১৯১৯, ১৯৩৮, ১৯৩৯, ১৯৪১ এবং ১৯৪৫ সাল ভালোভাবে মনে রাখো।

৩. বড় উত্তরে ভূমিকা + মূল আলোচনা + উপসংহার রাখো: এতে উত্তরটি গোছানো হয়।

৪. গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আন্ডারলাইন করো: যেমন—ভার্সাই সন্ধি, তোষণ নীতি, মিউনিখ চুক্তি, পোল্যান্ড আক্রমণ, পার্ল হারবার, জাতিসংঘ, ঠান্ডা লড়াই।

৫. শুধু মুখস্থ না করে ঘটনাগুলির ধারাবাহিকতা বোঝো: কারণ → ঘটনা → ফলাফল—এই তিনটি ধাপে অধ্যায়টি পড়লে মনে রাখা সহজ হয়।


উপসংহার

‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর’ অধ্যায়টি শুধু একটি যুদ্ধের ইতিহাস নয়; এটি কীভাবে একটি যুদ্ধের ফলে বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রথমে MCQ ও ১ নম্বরের তথ্য, এরপর ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, তারপর ৪ ও ৮ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন অনুশীলন করা ভালো। সবশেষে উপরের Revision Questions ও গুরুত্বপূর্ণ সালগুলি একবার দেখে নিলে পরীক্ষার আগে দ্রুত পুনরাবৃত্তি করা যাবে।

Article by A SARDAR

Lorem ipsum amet elit morbi dolor tortor. Vivamus eget mollis nostra ullam corper. Natoque tellus semper taciti nostra primis lectus donec tortor fusce morbi risus curae. Semper pharetra montes habitant congue integer nisi.

Leave a Comment