Class 7 History Chapter 9 Question Answer: পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের সপ্তম শ্রেণির ইতিহাসের নবম অধ্যায় “আজকের ভারত : সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন” থেকে পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর এখানে সহজ ও ছাত্রবান্ধব ভাষায় দেওয়া হলো।
এই অধ্যায়ে সরকার, গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, ভারতীয় সংবিধান, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, নির্বাচন, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন, পৌরসভা ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
এই পোস্টে ভেবে দেখো, খুঁজে দেখো, ১ নম্বর, ২ নম্বর এবং ৩/৪ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
অধ্যায় ৯-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এই অধ্যায় পড়ার সময় নিচের বিষয়গুলি বিশেষভাবে মনে রাখবে—
- সরকার ও সরকারের ধারণা
- গণতন্ত্র ও রাজতন্ত্র
- ভারতের সংবিধান
- ড. বি. আর. আম্বেদকর
- কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার
- সরকারের তিনটি বিভাগ
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
- নির্বাচন ও ভোটাধিকার
- স্বায়ত্তশাসন
- পৌরসভা
- পঞ্চায়েত ব্যবস্থা
- প্রাচীন ভারতের গণরাজ্য
- প্রাচীন এথেন্সের গণতন্ত্র
ভেবে দেখো, খুঁজে দেখো — প্রশ্ন ও উত্তর
১। নিজেদের মধ্য থেকে শাসক নির্বাচনের পদ্ধতিকে কী বলে?
উত্তর: নিজেদের মধ্য থেকে শাসক নির্বাচনের পদ্ধতিকে গণতন্ত্র বলে।
২। রাজা বা রানি দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে কী বলে?
উত্তর: রাজা বা রানি দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র বলে।
৩। স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ নিজেদের স্থানীয় সমস্যা ও প্রশাসনের কিছু কাজ নিজেরাই পরিচালনা করার সুযোগ পেলে তাকে স্বায়ত্তশাসন বলে।
৪। সংবিধান কী?
উত্তর: একটি দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব কী হবে এবং নাগরিকদের অধিকার কী হবে—এসবের মূল নিয়মকানুনের সংকলনকে সংবিধান বলে।
৫। ভারতের সংবিধান কবে গৃহীত হয়?
উত্তর: ভারতের সংবিধান ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ তারিখে গৃহীত হয়।
৬। ভারতের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
উত্তর: ভারতের সংবিধান ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখে কার্যকর হয়।
১ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১। ‘সরকার’ শব্দটি কোন ভাষার?
উত্তর: ফারসি।
২। সরকার বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দেশ বা অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনার ব্যবস্থাকে সরকার বলে।
৩। গণতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর: জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে গণতন্ত্র বলে।
৪। ভারত কী ধরনের রাষ্ট্র?
উত্তর: ভারত একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।
৫। ভারতের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
উত্তর: ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০।
৬। ভারতের সংবিধান কবে গৃহীত হয়?
উত্তর: ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯।
৭। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: ড. বি. আর. আম্বেদকর।
৮। ভারতের সংবিধান কী ধরনের সংবিধান?
উত্তর: লিখিত সংবিধান।
৯। সরকারের প্রধান তিনটি বিভাগ কী কী?
উত্তর: আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
১০। আইন প্রণয়নের কাজ কোন বিভাগের?
উত্তর: আইন বিভাগের।
১১। আইন কার্যকর করার কাজ কোন বিভাগের?
উত্তর: শাসন বিভাগের।
১২। বিচার করার কাজ কোন বিভাগের?
উত্তর: বিচার বিভাগের।
১৩। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির সঙ্গে কার নাম যুক্ত?
উত্তর: মন্তেস্কু।
১৪। স্বায়ত্তশাসন কী?
উত্তর: স্থানীয় মানুষদের নিজেদের স্থানীয় শাসন পরিচালনার ব্যবস্থাকে স্বায়ত্তশাসন বলে।
১৫। শহরাঞ্চলের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠান কী?
উত্তর: পৌরসভা।
১৬। গ্রামাঞ্চলের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠান কী?
উত্তর: পঞ্চায়েত।
১৭। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর কী?
উত্তর: গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ।
১৮। প্রাচীন গ্রিসের কোন নগররাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বিকাশ হয়েছিল?
উত্তর: এথেন্সে।
১৯। প্রাচীন ভারতের দুটি গণরাজ্যের নাম লেখো।
উত্তর: বজ্জি ও মল্ল।
২০। পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: গোপাল।
২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১। সরকার কাকে বলে?
উত্তর:
যে ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি দেশ বা অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালিত হয়, তাকে সরকার বলে। আইন তৈরি, প্রশাসন পরিচালনা, বিচার ও জনকল্যাণ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
২। গণতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর:
যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে সরকার গঠন করেন, তাকে গণতন্ত্র বলে। এখানে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
৩। রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| রাজতন্ত্র | গণতন্ত্র |
|---|---|
| রাজা বা রানি শাসন করেন। | নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার পরিচালনা করেন। |
| সাধারণত বংশানুক্রমে শাসক হন। | নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। |
৪। সংবিধান কী?
উত্তর:
দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে এবং সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব কী হবে—এসবের মূল নিয়মকানুনের সংকলনকে সংবিধান বলে। এটি দেশের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
৫। ড. বি. আর. আম্বেদকর কে ছিলেন?
উত্তর:
ড. বি. আর. আম্বেদকর ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, সমাজসংস্কারক ও স্বাধীন ভারতের প্রথম আইনমন্ত্রী। তিনি সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন।
৬। ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রীয় বলা হয় কেন?
উত্তর:
ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার—দুই ধরনের সরকার রয়েছে। সংবিধান তাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে। এই কারণে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন রাষ্ট্র বলা হয়।
৭। সরকারের তিনটি বিভাগ কী কী?
উত্তর:
সরকারের তিনটি প্রধান বিভাগ হলো—
- আইন বিভাগ—আইন তৈরি করে।
- শাসন বিভাগ—দেশ পরিচালনা ও আইন কার্যকর করে।
- বিচার বিভাগ—আইন অনুযায়ী বিচার করে।
৮। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
সরকারের ক্ষমতাকে আইন, শাসন ও বিচার—এই তিনটি বিভাগের মধ্যে ভাগ করে দেওয়াকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলে। এর ফলে কোনো একটি বিভাগের হাতে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয় না।
৯। স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
স্থানীয় এলাকার মানুষ নিজেদের এলাকার প্রশাসন ও সমস্যার সমাধানে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেলে তাকে স্বায়ত্তশাসন বলে। পৌরসভা ও পঞ্চায়েত এর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
১০। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কেন প্রয়োজন?
উত্তর:
স্থানীয় মানুষ তাদের এলাকার সমস্যা সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন। তাই তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাস্তা, জল, নিকাশি, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার মতো স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়।
১১। পৌরসভা কী?
উত্তর:
শহর ও নগর এলাকার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানকে পৌরসভা বলে। পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি ও পরিচ্ছন্নতার মতো নাগরিক পরিষেবা দেওয়া পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
১২। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর কী কী?
উত্তর:
পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর হলো—
- গ্রাম পঞ্চায়েত
- পঞ্চায়েত সমিতি
- জেলা পরিষদ
১৩। প্রাচীন ভারতের গণরাজ্য কী?
উত্তর:
প্রাচীন ভারতে কিছু রাষ্ট্রে একক রাজার পরিবর্তে একাধিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শাসনকার্যে অংশ নিত। এই ধরনের রাষ্ট্রকে গণরাজ্য বলা হতো। বজ্জি ও মল্ল ছিল উল্লেখযোগ্য গণরাজ্য।
৩/৪ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১। গণতন্ত্র বলতে কী বোঝো? এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর:
যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেন, তাকে গণতন্ত্র বলে।
গণতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য—
- জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
- নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নাগরিকদের ভোটাধিকার থাকে।
- নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।
- নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়।
২। রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি রাষ্ট্রের শাসক হন এবং সাধারণত বংশানুক্রমে শাসকের পদ লাভ করেন।
অন্যদিকে গণতন্ত্রে জনগণ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হয়।
অর্থাৎ রাজতন্ত্রে শাসকের পদ সাধারণত বংশগত হলেও গণতন্ত্রে শাসক বা প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
৩। ভারতের সংবিধানের গুরুত্ব কী?
উত্তর:
ভারতের সংবিধান দেশের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
এর গুরুত্ব হলো—
- দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করে।
- কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতা নির্ধারণ করে।
- সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কাজ নির্দিষ্ট করে।
- নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে।
- দেশের আইন ও প্রশাসনের মূল কাঠামো নির্ধারণ করে।
৪। ভারতকে গণতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র বলা হয় কেন?
উত্তর:
ভারতকে গণতান্ত্রিক বলা হয়, কারণ জনগণ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করেন।
ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রীয় বলা হয়, কারণ এখানে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার রয়েছে এবং সংবিধান তাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে।
৫। সরকারের তিনটি বিভাগ ও তাদের কাজ আলোচনা করো।
উত্তর:
সরকারের কাজ প্রধানত তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়—
আইন বিভাগ: দেশের জন্য প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করে।
শাসন বিভাগ: আইন কার্যকর করে এবং দেশের প্রশাসন পরিচালনা করে।
বিচার বিভাগ: আইন অনুযায়ী বিচার করে এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে।
এই তিনটি বিভাগ নিজেদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে দেশ পরিচালনায় সাহায্য করে।
৬। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ কী? এর গুরুত্ব কী?
উত্তর:
সরকারের ক্ষমতাকে আইন, শাসন ও বিচার—এই তিনটি বিভাগের মধ্যে ভাগ করে দেওয়াকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলে।
এর ফলে—
- কোনো একটি বিভাগের হাতে সমস্ত ক্ষমতা থাকে না।
- ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাবনা কমে।
- বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
- নাগরিকদের অধিকার রক্ষা সহজ হয়।
- সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।
এই নীতির সঙ্গে মন্তেস্কুর নাম বিশেষভাবে যুক্ত।
৭। স্বায়ত্তশাসন কী? এর প্রয়োজনীয়তা লেখো।
উত্তর:
স্থানীয় এলাকার মানুষ নিজেদের এলাকার প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেলে তাকে স্বায়ত্তশাসন বলে।
স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজনীয়তা হলো—
- স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়।
- সাধারণ মানুষ প্রশাসনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
- স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজ সহজ হয়।
- জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।
- স্থানীয় প্রশাসন আরও কার্যকর হয়।
৮। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর আলোচনা করো।
উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা তিনটি স্তরে বিভক্ত—
গ্রাম পঞ্চায়েত: গ্রামের স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের কাজ করে।
পঞ্চায়েত সমিতি: ব্লক স্তরে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজের মধ্যে সমন্বয় করে।
জেলা পরিষদ: জেলা স্তরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
৯। পৌরসভার প্রধান কাজগুলি কী কী?
উত্তর:
পৌরসভা শহর ও নগর এলাকার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠান।
এর প্রধান কাজ—
- পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।
- রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করা।
- ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা।
- রাস্তার আলো ও নাগরিক পরিষেবা প্রদান করা।
- জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা।
- বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করা।
১০। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাজগুলি লেখো।
উত্তর:
গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাজ হলো—
- গ্রামের রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা।
- পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।
- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
- স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতিতে সাহায্য করা।
- কৃষি ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে সহায়তা করা।
- স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।
১১। প্রাচীন ভারতে গণতন্ত্রের ধারণা সম্পর্কে কী জানা যায়?
উত্তর:
প্রাচীন ভারতেও গণতান্ত্রিক শাসনের কিছু উদাহরণ পাওয়া যায়। ষোড়শ মহাজনপদের যুগে বজ্জি ও মল্লের মতো গণরাজ্য ছিল।
এই ধরনের রাষ্ট্রে একক রাজার পরিবর্তে একাধিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শাসনকার্যে অংশ নিত। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রীতিও ছিল।
বাংলায় অরাজকতার সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গোপালকে রাজা নির্বাচিত করেছিলেন। পরে তিনি পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হন।
১২। প্রাচীন এথেন্সের গণতন্ত্র সম্পর্কে লেখো।
উত্তর:
প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগররাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসনের বিকাশ ঘটেছিল। সেখানে নাগরিকরা বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করতেন।
সভায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হতো এবং নাগরিকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতেন।
তবে এথেন্সের গণতন্ত্র আধুনিক গণতন্ত্রের মতো সর্বজনীন ছিল না। নারী, দাস ও বিদেশিরা রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
১৩। প্রাচীন ও আধুনিক গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
প্রাচীন গণতন্ত্র:
- রাজনৈতিক অধিকার সীমিত ছিল।
- সমাজের অনেক মানুষ রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
- কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকরা সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নিতেন।
আধুনিক গণতন্ত্র:
- প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকার রয়েছে।
- নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়।
- নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার আইন ও সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
পরীক্ষার জন্য এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | মনে রাখার তথ্য |
|---|---|
| গণতন্ত্র | জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধির শাসন |
| রাজতন্ত্র | রাজা বা রানির শাসন |
| সংবিধান গৃহীত | ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ |
| সংবিধান কার্যকর | ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ |
| সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি | ড. বি. আর. আম্বেদকর |
| সরকারের বিভাগ | আইন, শাসন ও বিচার |
| ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ | মন্তেস্কু |
| শহরের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান | পৌরসভা |
| গ্রামের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান | পঞ্চায়েত |
| পঞ্চায়েতের স্তর | গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ |
| প্রাচীন গণতন্ত্র | এথেন্স |
| প্রাচীন ভারতের গণরাজ্য | বজ্জি ও মল্ল |
| পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা | গোপাল |
FAQ — Class 7 History Chapter 9
১. Class 7 History Chapter 9-এর নাম কী?
সপ্তম শ্রেণির ইতিহাসের নবম অধ্যায়ের নাম “আজকের ভারত : সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন”।
২. এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনগুলি?
গণতন্ত্র, সংবিধান, সরকারের তিনটি বিভাগ, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ, নির্বাচন, স্বায়ত্তশাসন, পৌরসভা ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৩. পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কয়টি স্তর?
পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর হলো—গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ।
৪. সরকারের তিনটি বিভাগ কী?
সরকারের তিনটি বিভাগ হলো আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
৫. ভারতের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
ভারতের সংবিধান ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখে কার্যকর হয়।
পরীক্ষার প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের টিপস
এই অধ্যায় থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রথমে ১ নম্বরের সংজ্ঞা ও তথ্য, তারপর ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত পার্থক্য ও ব্যাখ্যা, এবং শেষে ৩/৪ নম্বরের বড়ো উত্তরগুলি ভালোভাবে পড়বে।
বিশেষ করে গণতন্ত্র বনাম রাজতন্ত্র, সংবিধান, সরকারের তিনটি বিভাগ, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ, স্বায়ত্তশাসন, পঞ্চায়েতের তিনটি স্তর এবং প্রাচীন গণতন্ত্র—এই বিষয়গুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখার অভ্যাস করা উচিত।
মনে রাখবে: শুধু মুখস্থ না করে প্রতিটি বিষয়ের সংজ্ঞা + বৈশিষ্ট্য + উদাহরণ বুঝে পড়লে পরীক্ষায় নতুনভাবে প্রশ্ন এলেও উত্তর লেখা সহজ হবে।