(+91) 8617491831

contact@topperhq.com

A SARDAR

Class 10 History Chapter 8 Question Answer | উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব

October 6, 2026

**Alt text:** মাধ্যমিক ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত ১৯৪৭–১৯৬৪ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, যেখানে নেহরু, সর্দার প্যাটেল, ভারত মানচিত্র, দেশীয় রাজ্য সংযুক্তি, উদ্বাস্তু সমস্যা, মহারাষ্ট্র-গুজরাট ও গোয়া ভারতভুক্তির চিত্র রয়েছে।

এই পোস্টে WBBSE Class 10 History Chapter 8 – “উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭–১৯৬৪)” অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ বাংলায় দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এখানে ১, ২, ৪ ও ৮ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর সাজানো হয়েছে।

অবশ্যই। নিচে WBBSE মাধ্যমিক ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায় “উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭–১৯৬৪)” থেকে ১ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর দিলাম। প্রশ্নগুলি পরীক্ষামুখী করে বাছাই করা হয়েছে এবং উত্তরগুলি সরাসরি মুখস্থ করার বদলে সহজ, ছাত্রবান্ধব ও original wording-এ লেখা। অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে দেশীয় রাজ্যের ভারতভুক্তি, উদ্বাস্তু সমস্যা এবং ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

Table of Contents

মাধ্যমিক ইতিহাস অষ্টম অধ্যায়: ১ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

ক. অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ‘উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর স্বাধীন ভারতের প্রাথমিক পর্যায়ের ইতিহাসকে উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত বলা হয়।

২. ভারতের স্বাধীনতা আইন কবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয়?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুলাই।

৩. ভারত কবে স্বাধীনতা লাভ করে?
উত্তর: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট।

৪. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

৫. স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী।

৬. স্বাধীনতার সময় ভারতে কতগুলি দেশীয় রাজ্য ছিল?
উত্তর: প্রায় ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্য ছিল।

৭. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির প্রধান উদ্যোগ কে নিয়েছিলেন?
উত্তর: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।

৮. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির কাজে প্যাটেলকে কে সাহায্য করেছিলেন?
উত্তর: ভি. পি. মেনন।

৯. দেশীয় রাজ্যগুলি ভারত বা পাকিস্তানে যোগদানের জন্য কোন দলিলে স্বাক্ষর করত?
উত্তর: Instrument of Accession বা ভারতভুক্তির দলিলে।

১০. কাশ্মীরের তৎকালীন শাসক কে ছিলেন?
উত্তর: মহারাজা হরি সিং।

১১. কাশ্মীরের ভারতভুক্তির দলিলে কে স্বাক্ষর করেন?
উত্তর: মহারাজা হরি সিং।

১২. হায়দরাবাদের শাসককে কী বলা হত?
উত্তর: নিজাম।

১৩. হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির বিরোধী সংগঠনের নাম কী ছিল?
উত্তর: রাজাকার বাহিনী।

১৪. হায়দরাবাদকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কোন অভিযান চালানো হয়েছিল?
উত্তর: ‘অপারেশন পোলো’।

১৫. জুনাগড়ের শাসক কোন রাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
উত্তর: পাকিস্তানে।

১৬. জুনাগড় শেষ পর্যন্ত কোন দেশের সঙ্গে যুক্ত হয়?
উত্তর: ভারতের সঙ্গে।

১৭. দেশভাগের ফলে ভারতে প্রধানত কোন মানবিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: উদ্বাস্তু সমস্যা।

১৮. দেশভাগের ফলে পূর্ববঙ্গ থেকে কোন দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ এসেছিল?
উত্তর: ভারতে।

১৯. দেশভাগের ফলে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা মানুষদের প্রধানত কোথায় পুনর্বাসিত করা হয়?
উত্তর: প্রধানত উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে।

২০. পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের একটি বড় অংশ কোথায় আশ্রয় নিয়েছিল?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে।


খ. সংবিধান ও স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা

২১. ভারতের সংবিধান কবে গৃহীত হয়?
উত্তর: ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ নভেম্বর।

২২. ভারতের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
উত্তর: ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি।

২৩. স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: জওহরলাল নেহরু।

২৪. ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
উত্তর: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।

২৫. ভারতের সংবিধান প্রণয়নকারী সংস্থার নাম কী?
উত্তর: গণপরিষদ।

২৬. ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৫১–৫২ খ্রিস্টাব্দে।

২৭. স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে?
উত্তর: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।


গ. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন

২৮. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি কেন উঠেছিল?
উত্তর: ভাষাভিত্তিক জনগোষ্ঠীর প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার দাবিতে এই আন্দোলন জোরদার হয়।

২৯. ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবিতে প্রথম বড় আন্দোলন কোন রাজ্যকে কেন্দ্র করে হয়েছিল?
উত্তর: অন্ধ্র রাজ্যকে কেন্দ্র করে।

৩০. অন্ধ্র রাজ্য গঠনের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে কার নাম বিশেষভাবে যুক্ত?
উত্তর: পট্টি শ্রীরামুলু।

৩১. পট্টি শ্রীরামুলু কী কারণে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবিতে অনশন করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৩২. অন্ধ্র রাজ্য কবে গঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে।

৩৩. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কবে গঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে।

৩৪. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: ফজল আলি।

৩৫. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠন আইন কবে কার্যকর হয়?
উত্তর: ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে।

৩৬. ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের প্রধান ভিত্তি কী ছিল?
উত্তর: ভাষা ও প্রশাসনিক সুবিধা।

৩৭. ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের ফলে ভারতে কয়টি অঙ্গরাজ্য হয়?
উত্তর: ১৪টি।

৩৮. ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের ফলে কতগুলি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল?
উত্তর: ৬টি।

৩৯. মহারাষ্ট্র ও গুজরাট পৃথক রাজ্য হিসেবে কবে গঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে।

৪০. মহারাষ্ট্র গঠনের দাবির আন্দোলন কী নামে পরিচিত?
উত্তর: সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলন।

৪১. গুজরাট গঠনের দাবির আন্দোলন কী নামে পরিচিত?
উত্তর: মহাগুজরাট আন্দোলন।

৪২. গোয়া কবে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়?
উত্তর: ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে।


পরীক্ষার আগে অবশ্যই মনে রাখবে

এই অধ্যায় থেকে ১ নম্বরের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে মনে রাখো—

  • ১৮ জুলাই ১৯৪৭ → ভারতের স্বাধীনতা আইন পাস
  • ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ → ভারত স্বাধীন
  • সর্দার প্যাটেল + ভি. পি. মেনন → দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি
  • হরি সিং → কাশ্মীর
  • রাজাকার → হায়দরাবাদ
  • অপারেশন পোলো → হায়দরাবাদ
  • পট্টি শ্রীরামুলু → পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবি
  • ১৯৫৩ → অন্ধ্র রাজ্য
  • ফজল আলি → রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি
  • ১৯৫৬ → রাজ্য পুনর্গঠন আইন
  • ১৯৬০ → মহারাষ্ট্র ও গুজরাট
  • ১৯৬১ → গোয়া ভারতভুক্ত

এগুলি একেবারে one-mark revision facts হিসেবে পড়লে পরীক্ষার আগে দ্রুত ঝালিয়ে নেওয়া যাবে। অধ্যায়ের প্রচলিত প্রশ্নসেটগুলিতেও এই বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। (EduTips)

মাধ্যমিক ইতিহাস — অষ্টম অধ্যায়

উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭–১৯৬৪)


A. এক কথায় / এক শব্দে উত্তর দাও

প্রশ্ন ১–২০

১. ভারতের স্বাধীনতা আইন কবে পাস হয়?
উত্তর: ১৮ জুলাই, ১৯৪৭।

২. ভারত কবে স্বাধীনতা লাভ করে?
উত্তর: ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭।

৩. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

৪. স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় গভর্নর-জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তর: চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী।

৫. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা কে পালন করেন?
উত্তর: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।

৬. সর্দার প্যাটেলের সহযোগী আমলা কে ছিলেন?
উত্তর: ভি. পি. মেনন।

৭. কাশ্মীরের শেষ দেশীয় শাসক কে ছিলেন?
উত্তর: মহারাজা হরি সিং।

৮. হায়দরাবাদের শাসককে কী বলা হত?
উত্তর: নিজাম।

৯. হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির বিরোধী সশস্ত্র সংগঠনের নাম কী?
উত্তর: রাজাকার বাহিনী।

১০. হায়দরাবাদকে ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত করার সামরিক অভিযানের নাম কী?
উত্তর: অপারেশন পোলো।

১১. পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনকারী প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উত্তর: পট্টি শ্রীরামুলু।

১২. অন্ধ্র রাজ্য কোন সালে গঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৫৩ সালে।

১৩. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: ফজল আলি।

১৪. রাজ্য পুনর্গঠন আইন কোন সালে কার্যকর হয়?
উত্তর: ১৯৫৬ সালে।

১৫. ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৫১–৫২ সালে।

১৬. স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
উত্তর: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।

১৭. স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: জওহরলাল নেহরু।

১৮. ভারতের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
উত্তর: ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০।

১৯. মহারাষ্ট্র ও গুজরাট পৃথক রাজ্য হিসেবে কোন সালে আত্মপ্রকাশ করে?
উত্তর: ১৯৬০ সালে।

২০. গোয়া ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয় কোন সালে?
উত্তর: ১৯৬১ সালে।


B. শূন্যস্থান পূরণ করো

প্রশ্ন ২১–৩০

২১. ১৯৪৭ সালের _______ আইনের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান দুটি পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
উত্তর: ভারতীয় স্বাধীনতা

২২. ভারতের স্বাধীনতার সময় দেশীয় রাজ্যের সংখ্যা ছিল প্রায় _______টি।
উত্তর: ৫৬৫

২৩. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির জন্য _______ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উত্তর: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

২৪. কাশ্মীরের শাসক _______ ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন।
উত্তর: মহারাজা হরি সিং

২৫. হায়দরাবাদের সশস্ত্র রাজাকারদের নেতা ছিলেন _______।
উত্তর: কাসিম রিজভি

২৬. পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবিতে _______ আমরণ অনশন করেছিলেন।
উত্তর: পট্টি শ্রীরামুলু

২৭. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন _______ সালে গঠিত হয়।
উত্তর: ১৯৫৩

২৮. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি ছিলেন _______।
উত্তর: ফজল আলি

২৯. ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল _______।
উত্তর: ভাষা

৩০. ১৯৬০ সালে বোম্বাই রাজ্য বিভক্ত হয়ে _______ ও _______ নামে দুটি রাজ্য সৃষ্টি হয়।
উত্তর: মহারাষ্ট্র ও গুজরাট


C. সত্য না মিথ্যা লেখো

প্রশ্ন ৩১–৪০

৩১. ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে।
উত্তর: সত্য।

৩২. লর্ড মাউন্টব্যাটেন ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
উত্তর: মিথ্যা।

৩৩. চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় গভর্নর-জেনারেল।
উত্তর: সত্য।

৩৪. সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উত্তর: সত্য।

৩৫. মহারাজা হরি সিং হায়দরাবাদের শাসক ছিলেন।
উত্তর: মিথ্যা।

৩৬. ‘অপারেশন পোলো’ কাশ্মীরের ভারতভুক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
উত্তর: মিথ্যা।

৩৭. পট্টি শ্রীরামুলু পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবিতে অনশন করেছিলেন।
উত্তর: সত্য।

৩৮. ফজল আলি ছিলেন রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি।
উত্তর: সত্য।

৩৯. মহারাষ্ট্র ও গুজরাট ১৯৫৬ সালে পৃথক রাজ্য হিসেবে গঠিত হয়।
উত্তর: মিথ্যা।

৪০. গোয়া ১৯৬১ সালে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উত্তর: সত্য।


D. মিল খুঁজে লেখো

প্রশ্ন ৪১–৫০

ক-স্তম্ভখ-স্তম্ভ
৪১. লর্ড মাউন্টব্যাটেন(ক) পৃথক অন্ধ্র আন্দোলন
৪২. চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী(খ) রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন
৪৩. সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল(গ) প্রথম গভর্নর-জেনারেল
৪৪. ভি. পি. মেনন(ঘ) দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি
৪৫. মহারাজা হরি সিং(ঙ) হায়দরাবাদ
৪৬. পট্টি শ্রীরামুলু(চ) কাশ্মীর
৪৭. ফজল আলি(ছ) প্রথম ভারতীয় গভর্নর-জেনারেল
৪৮. নিজাম(জ) প্যাটেলের সহযোগী
৪৯. অপারেশন পোলো(ঝ) হায়দরাবাদের ভারতভুক্তি
৫০. ১৯৬১(ঞ) গোয়ার ভারতভুক্তি

উত্তর:

৪১ — (গ)
৪২ — (ছ)
৪৩ — (ঘ)
৪৪ — (জ)
৪৫ — (চ)
৪৬ — (ক)
৪৭ — (খ)
৪৮ — (ঙ)
৪৯ — (ঝ)
৫০ — (ঞ)


১ নম্বরের জন্য শেষ মুহূর্তের Revision

বিষয়মনে রাখবে
স্বাধীনতা আইন১৮ জুলাই, ১৯৪৭
স্বাধীনতা১৫ আগস্ট, ১৯৪৭
প্রথম গভর্নর-জেনারেললর্ড মাউন্টব্যাটেন
প্রথম ভারতীয় গভর্নর-জেনারেলচক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী
দেশীয় রাজ্যপ্রায় ৫৬৫টি
দেশীয় রাজ্য সংযুক্তিসর্দার প্যাটেল
প্যাটেলের সহযোগীভি. পি. মেনন
কাশ্মীরমহারাজা হরি সিং
হায়দরাবাদনিজাম
রাজাকারকাসিম রিজভি
হায়দরাবাদ অভিযানঅপারেশন পোলো
অন্ধ্র আন্দোলনপট্টি শ্রীরামুলু
অন্ধ্র রাজ্য১৯৫৩
রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন১৯৫৩
কমিশনের সভাপতিফজল আলি
রাজ্য পুনর্গঠন আইন১৯৫৬
মহারাষ্ট্র ও গুজরাট১৯৬০
গোয়া১৯৬১

এই ৫০টি প্রশ্নের পরের ধাপে একই অধ্যায় থেকে ২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর তৈরি করা যাবে—বিশেষ করে “কেন/কীভাবে/পার্থক্য লেখো/সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা” ধরনের মাধ্যমিক-উপযোগী প্রশ্ন।

নিচে WBBSE মাধ্যমিক ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায়—“উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭–১৯৬৪)” থেকে ২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেওয়া হল। উত্তরগুলি student-friendly, exam-oriented -এ রাখা হয়েছে, যাতে ২ নম্বরের উত্তরে সহজে লেখা যায়।

মাধ্যমিক ইতিহাস অষ্টম অধ্যায় ২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১. ‘উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত’ বলতে কী বোঝ?

উত্তর:
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়কে ‘উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত’ বলা হয়। এই অধ্যায়ে মূলত ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সময়ের ঘটনাবলি আলোচনা করা হয়েছে।


২. দেশীয় রাজ্য বলতে কী বোঝ?

উত্তর:
ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের যেসব অঞ্চল ব্রিটিশ ভারতের প্রত্যক্ষ শাসনের বাইরে দেশীয় রাজা বা নবাবদের দ্বারা শাসিত হত, তাদের দেশীয় রাজ্য বলা হত। স্বাধীনতার সময় ভারতে প্রায় ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্য ছিল।


৩. স্বাধীনতার সময় দেশীয় রাজ্যগুলির সামনে কী কী বিকল্প ছিল?

উত্তর:
স্বাধীনতার সময় দেশীয় রাজ্যগুলির সামনে মূলত ভারত বা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিকল্প ছিল। কিছু শাসক স্বাধীন থাকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত হয়।


৪. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তিতে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর:
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। তিনি আলোচনা, কূটনীতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন।


৫. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তিতে ভি. পি. মেননের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর:
ভি. পি. মেনন সর্দার প্যাটেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিভিন্ন রাজ্যের শাসকদের সঙ্গে আলোচনা এবং ভারতভুক্তির দলিল সংক্রান্ত কাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।


৬. ‘ভারতভুক্তির দলিল’ বলতে কী বোঝ?

উত্তর:
দেশীয় রাজ্যের শাসক কর্তৃক ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য স্বাক্ষরিত সরকারি দলিলকে ‘ভারতভুক্তির দলিল’ বা Instrument of Accession বলা হয়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ভারতীয় ইউনিয়নের অংশ হয়ে ওঠে।


৭. কাশ্মীরের ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে মহারাজা হরি সিং-এর ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর:
কাশ্মীরের শাসক মহারাজা হরি সিং প্রথমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরপেক্ষ থাকতে চেয়েছিলেন। পরে পাকিস্তান-সমর্থিত উপজাতীয় আক্রমণের পরিস্থিতিতে তিনি ভারতের কাছে সাহায্য চান এবং ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন।


৮. হায়দরাবাদ ভারতীয় ইউনিয়নে কীভাবে যুক্ত হয়?

উত্তর:
হায়দরাবাদের নিজাম স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন এবং ভারতভুক্তিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। রাজাকারদের তৎপরতা ও অস্থিরতার পর ভারত সরকার ১৯৪৮ সালে ‘অপারেশন পোলো’ পরিচালনা করে। এর ফলে হায়দরাবাদ ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত হয়।


৯. রাজাকার কারা ছিল?

উত্তর:
রাজাকাররা ছিল হায়দরাবাদের নিজামের সমর্থক একটি সশস্ত্র সংগঠন। তারা হায়দরাবাদকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার বিরোধিতা করত এবং নিজামের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে ছিল।


১০. জুনাগড়ের ভারতভুক্তির সমস্যা কী ছিল?

উত্তর:
জুনাগড়ের অধিকাংশ মানুষ হিন্দু হলেও তার মুসলিম শাসক পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে সেখানে রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দেয়। পরে গণভোটের মাধ্যমে জুনাগড় ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়।


দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা

১১. দেশভাগের ফলে উদ্বাস্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল কেন?

উত্তর:
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হলে সাম্প্রদায়িক হিংসা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশেই উদ্বাস্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়।


১২. পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের প্রধান সমস্যা কী ছিল?

উত্তর:
পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের প্রধান সমস্যা ছিল বাসস্থান, খাদ্য ও কর্মসংস্থানের অভাব। পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তু এসে পড়ায় পুনর্বাসন একটি বড় প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যা হয়ে ওঠে।


১৩. উদ্বাস্তু পুনর্বাসন বলতে কী বোঝ?

উত্তর:
দেশভাগের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষদের নতুন জায়গায় বসবাসের ব্যবস্থা করা এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দেওয়াকে উদ্বাস্তু পুনর্বাসন বলা হয়। এর মধ্যে বাসস্থান, জমি, কাজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।


সংবিধান ও গণতন্ত্র

১৪. ভারতের সংবিধানের গুরুত্ব কী?

উত্তর:
ভারতের সংবিধান স্বাধীন ভারতের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি তৈরি করে। এটি নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করে এবং গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নির্ধারণ করে।


১৫. ভারতের সংবিধান কবে গৃহীত ও কার্যকর হয়?

উত্তর:
ভারতের সংবিধান ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ গৃহীত হয় এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ কার্যকর হয়। ২৬ জানুয়ারি দিনটি তাই প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়।


১৬. ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব কী?

উত্তর:
১৯৫১–৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন ছিল স্বাধীন ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এর মাধ্যমে দেশের জনগণ প্রথমবার সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়।


১৭. সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার বলতে কী বোঝ?

উত্তর:
নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানো প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ বা সম্পত্তির পার্থক্য না করে ভোট দেওয়ার অধিকারকে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার বলা হয়।


ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন

১৮. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি কেন উঠেছিল?

উত্তর:
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে পৃথক প্রশাসনিক রাজ্য গঠনের দাবি জানায়। মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনা এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আকাঙ্ক্ষা এই দাবিকে শক্তিশালী করে।


১৯. পট্টি শ্রীরামুলু কেন স্মরণীয়?

উত্তর:
পট্টি শ্রীরামুলু পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠনের দাবিতে দীর্ঘদিন অনশন করেন। অনশনরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবিকে আরও শক্তিশালী করে এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৫৩ সালে অন্ধ্র রাজ্য গঠিত হয়।


২০. অন্ধ্র রাজ্য গঠনের তাৎপর্য কী?

উত্তর:
১৯৫৩ সালে পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠনের মাধ্যমে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। এর পর ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।


২১. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কেন গঠিত হয়েছিল?

উত্তর:
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করে। কমিশন রাজ্যগুলির পুনর্গঠনের বিষয়ে সুপারিশ করে।


২২. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন? এর উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর:
রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সভাপতি ছিলেন ফজল আলি। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ভাষা, প্রশাসন ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে রাজ্য পুনর্গঠনের উপযুক্ত ব্যবস্থা সম্পর্কে সুপারিশ করা।


২৩. ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের গুরুত্ব কী?

উত্তর:
১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে ভারতের রাজ্যগুলির সীমানায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ভাষাগত ও প্রশাসনিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নতুনভাবে রাজ্যগুলির বিন্যাস করা হয়।


২৪. ‘সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলন’ কী?

উত্তর:
মারাঠি ভাষাভাষী অঞ্চলগুলিকে নিয়ে পৃথক মহারাষ্ট্র রাজ্য গঠনের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, তাকে ‘সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলন’ বলা হয়। এই আন্দোলনের ফলেই ১৯৬০ সালে মহারাষ্ট্র রাজ্য গঠিত হয়।


২৫. ‘মহাগুজরাট আন্দোলন’ কী?

উত্তর:
গুজরাটি ভাষাভাষী অঞ্চলগুলিকে নিয়ে পৃথক গুজরাট রাজ্য গঠনের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, তাকে ‘মহাগুজরাট আন্দোলন’ বলা হয়। এর ফলস্বরূপ ১৯৬০ সালে গুজরাট পৃথক রাজ্য হিসেবে গঠিত হয়।


২৬. ১৯৬০ সালে বোম্বাই রাজ্যের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর:
১৯৬০ সালে বোম্বাই রাজ্যকে ভাষাভিত্তিকভাবে ভাগ করা হয়। এর ফলে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট নামে দুটি পৃথক রাজ্যের সৃষ্টি হয়।


২৭. গোয়ার ভারতভুক্তির গুরুত্ব কী?

উত্তর:
পর্তুগিজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৬১ সালে গোয়া ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে ভারতের উপনিবেশমুক্তির প্রক্রিয়া আরও সম্পূর্ণ হয়।


পরীক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ২ নম্বরের প্রশ্ন

নিচের প্রশ্নগুলি বার্ষিক/মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে পড়া উচিত:

  1. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তিতে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা কী ছিল?
  2. ভি. পি. মেননের ভূমিকা কী ছিল?
  3. কাশ্মীর কীভাবে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়?
  4. হায়দরাবাদ কীভাবে ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত হয়?
  5. রাজাকার কারা ছিল?
  6. দেশভাগের ফলে উদ্বাস্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল কেন?
  7. ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি কেন উঠেছিল?
  8. পট্টি শ্রীরামুলু কেন স্মরণীয়?
  9. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কেন গঠিত হয়েছিল?
  10. ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের গুরুত্ব কী?
  11. সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলন কী?
  12. মহাগুজরাট আন্দোলন কী?
  13. ১৯৬০ সালে বোম্বাই রাজ্যের কী পরিবর্তন হয়?
  14. গোয়ার ভারতভুক্তির গুরুত্ব কী?

পরীক্ষার কৌশল: ২ নম্বরের উত্তরে সাধারণত ২টি স্পষ্ট ও তথ্যসমৃদ্ধ বাক্য যথেষ্ট। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ উত্তর না লিখে ব্যক্তি + ঘটনা + কারণ/ফলাফল—এই কাঠামোতে উত্তর লিখলে উত্তরটি বেশি কার্যকর হবে।

৮ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর

এই অংশে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৮ নম্বরের প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উত্তরে প্রথমে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা এবং তারপর বিষয় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পয়েন্ট ও ব্যাখ্যা রাখা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার খাতায় সহজে ও সুন্দরভাবে লেখা যায়।

১. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় ব্রিটিশ ভারতের পাশাপাশি প্রায় ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্য ছিল। এই রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করা স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক সংহতি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান কাজ ছিল।

দেশীয় রাজ্যগুলির সমস্যা:
ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর দেশীয় রাজ্যগুলির ওপর ব্রিটিশ কর্তৃত্ব শেষ হয়ে যায়। ফলে তাদের সামনে ভারত বা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অথবা স্বাধীন থাকার প্রশ্ন দেখা দেয়। দেশীয় রাজ্যগুলি বিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীন থাকলে ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

প্যাটেলের ভূমিকা:
স্বাধীন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তাঁকে এই কাজে ভি. পি. মেনন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন। প্যাটেল দেশীয় রাজাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। তিনি বোঝান যে ছোট ছোট স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে থাকা তাদের পক্ষে বাস্তবে কঠিন হবে। দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির জন্য Instrument of Accession বা যোগদানের দলিল ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ দেশীয় রাজা এই দলিলে স্বাক্ষর করে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হন।

জটিল রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা:
জুনাগড়ের ক্ষেত্রে জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে ভারত সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। হায়দরাবাদের নিজাম স্বাধীন থাকতে চাইলে শেষ পর্যন্ত অপারেশন পোলো-র মাধ্যমে হায়দরাবাদকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও মহারাজা হরি সিং ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করার পর ভারত সামরিক সাহায্য প্রদান করে। প্যাটেলের দৃঢ় নেতৃত্ব ও বাস্তববাদী নীতির ফলে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য অল্প সময়ের মধ্যে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়।

গুরুত্ব:
দেশীয় রাজ্যগুলির সংযুক্তির ফলে ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সংহতি শক্তিশালী হয়। বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট রাষ্ট্রে ভারত বিভক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই দূর হয়। তাই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক সংহতির অন্যতম প্রধান স্থপতি এবং ‘লৌহমানব’ বলা হয়।

২. কাশ্মীরের ভারতভুক্তির কারণ ও ঘটনাবলি আলোচনা করো।

উত্তর:
স্বাধীনতার সময় জম্মু ও কাশ্মীর ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় রাজ্য। ১৯৪৭ সালের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের ভারতভুক্তি ঘটে এবং পরবর্তীকালে এটি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিণত হয়।

কাশ্মীরের প্রাথমিক অবস্থান:

জম্মু ও কাশ্মীরের শাসক ছিলেন মহারাজা হরি সিং। তাঁর রাজ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস থাকলেও তিনি নিজে হিন্দু শাসক ছিলেন। ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর কাশ্মীর কোন রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। হরি সিং প্রথমদিকে ভারত বা পাকিস্তান—কোনও রাষ্ট্রের সঙ্গেই যুক্ত হতে চাননি। তিনি কাশ্মীরকে স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

পাকিস্তান-সমর্থিত আক্রমণ:

১৯৪৭ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান-সমর্থিত উপজাতীয় বাহিনী কাশ্মীর আক্রমণ করে। তারা দ্রুত কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে মহারাজা হরি সিং-এর সামনে গুরুতর নিরাপত্তা সংকট দেখা দেয়। তিনি ভারতের কাছে সামরিক সাহায্য চান।

ভারতভুক্তি:

ভারত সরকার সামরিক সাহায্য করতে সম্মত হলেও কাশ্মীরের ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়। এরপর মহারাজা হরি সিং Instrument of Accession বা ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী এরপর কাশ্মীরে প্রবেশ করে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।

গুরুত্ব:

কাশ্মীরের ভারতভুক্তির পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কাশ্মীরের একটি অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরবর্তীকালে কাশ্মীরের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আলোচিত হয়। ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক নিরাপত্তার দিক থেকে কাশ্মীরের ভারতভুক্তি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের ইতিহাসে কাশ্মীরের ভারতভুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।


৩. হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির ঘটনাটি আলোচনা করো।

উত্তর:
স্বাধীনতার সময় হায়দরাবাদ ছিল ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বৃহৎ ও সমৃদ্ধ দেশীয় রাজ্যগুলির একটি। এর শাসক নিজাম ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হায়দরাবাদকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নিজামের অবস্থান:

হায়দরাবাদের শাসক ছিলেন নিজাম। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর নিজাম হায়দরাবাদকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করতে চাননি। তিনি হায়দরাবাদকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু হায়দরাবাদ ভৌগোলিকভাবে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত হওয়ায় তার স্বাধীন থাকা ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সংহতির পক্ষে সমস্যাজনক ছিল।

রাজাকারদের ভূমিকা:

এই সময় হায়দরাবাদে রাজাকার নামে একটি সশস্ত্র সংগঠনের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। রাজাকাররা ভারতভুক্তির বিরোধিতা করত এবং নিজামের স্বাধীন থাকার দাবিকে সমর্থন করত। তাদের কার্যকলাপের ফলে হায়দরাবাদে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে।

অপারেশন পোলো:

ভারত সরকার প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে। কিন্তু নিজাম হায়দরাবাদকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত ভারত সরকার সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে অপারেশন পোলো নামে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত হায়দরাবাদের বিভিন্ন অঞ্চলে অগ্রসর হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজামের বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

ফলাফল:

এরপর হায়দরাবাদ ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় রাজ্যের পৃথক থাকার সম্ভাবনা দূর হয়। ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সংহতি আরও শক্তিশালী হয়। হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে সর্দার প্যাটেলের দৃঢ় নেতৃত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


৪. দেশভাগের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যার কারণ, প্রকৃতি ও প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর:
১৯৪৭ সালের দেশভাগ ভারতের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত একটি গভীর মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছিল। দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নতুন দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং স্বাধীন ভারতকে ব্যাপক উদ্বাস্তু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

উদ্বাস্তু সমস্যার কারণ:

ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টির ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক জনসংখ্যা স্থানান্তর শুরু হয়। সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে দেশভাগ হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও হিংসার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার অভাবে বহু মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বহু মানুষ ভারতে আসেন। একইভাবে পূর্ববঙ্গ থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে চলে আসেন।

উদ্বাস্তুদের সমস্যা:

ভারতে আসা বহু উদ্বাস্তু সর্বস্ব হারিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে বাধ্য হন। তাঁদের থাকার জন্য বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তু শিবির ও পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। সরকারকে তাঁদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়। তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য জমি, বাড়ি ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব:

উদ্বাস্তুদের আগমনের ফলে পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যের জনসংখ্যার ওপর বড় চাপ পড়ে। শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। উদ্বাস্তুদের অনেকেই নতুন পরিবেশে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তোলেন। তাঁদের আগমন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

গুরুত্ব:

উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সমস্যা ছিল। খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ও সামাজিক পুনর্বাসনের মতো নানা বিষয়ের সঙ্গে এই সমস্যা জড়িত ছিল। তাই দেশভাগের উদ্বাস্তু সমস্যা ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের অন্যতম বৃহৎ মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট।


৫. ভারতে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের কারণ ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:
স্বাধীনতার পর ভারতের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের ভাষার ভিত্তিতে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এই দাবির ফলে ভারত সরকার রাজ্যগুলির সীমানা নতুনভাবে নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ভাষাভিত্তিক রাজ্যের দাবির কারণ:

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বসবাস ছিল। ভাষা মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল। তাই বহু অঞ্চলের মানুষ নিজেদের ভাষার ভিত্তিতে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি জানাতে শুরু করেন। তাঁদের ধারণা ছিল, ভাষাভিত্তিক রাজ্য হলে প্রশাসন সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ হবে। মাতৃভাষায় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার সুযোগ বৃদ্ধিও এই দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।

অন্ধ্র আন্দোলনের প্রভাব:

অন্ধ্র অঞ্চলের তেলুগুভাষীরা পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবি জানায়। পট্টি শ্রীরামুলুর আন্দোলন এই দাবিকে বিশেষভাবে শক্তিশালী করে। তাঁর মৃত্যুর পর অন্ধ্র অঞ্চলে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৩ সালে পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠিত হয়। অন্ধ্র গঠনের পর অন্যান্য ভাষাভাষী অঞ্চলেও পৃথক রাজ্যের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

রাজ্য পুনর্গঠন:

এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ১৯৫৩ সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করে। ফজল আলির নেতৃত্বাধীন এই কমিশন ভাষা, প্রশাসনিক সুবিধা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালে States Reorganisation Act কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ভারতের রাজ্যগুলির সীমানায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।

গুরুত্ব:

ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের ফলে আঞ্চলিক মানুষের অনেক দাবি স্বীকৃতি লাভ করে। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়। ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে আঞ্চলিক পরিচয় সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে স্বীকৃতি পায়। একই সঙ্গে ভারতের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন ভারতের গণতান্ত্রিক বিকাশ ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


৬. পট্টি শ্রীরামুলুর আন্দোলন ও পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠনের ঘটনা আলোচনা করো।

উত্তর:
স্বাধীনতার পর তেলুগুভাষী মানুষের মধ্যে পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠনের দাবি প্রবল হয়ে ওঠে। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন পট্টি শ্রীরামুলু, যাঁর আত্মত্যাগ পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠনের পথকে দ্রুততর করে।

পৃথক অন্ধ্রের দাবি:

মাদ্রাজের তেলুগুভাষী অঞ্চলের মানুষ নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি জানাতে শুরু করেন। তাঁদের প্রধান দাবি ছিল তেলুগুভাষী অঞ্চল নিয়ে একটি পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠন করা। তাঁরা মনে করতেন, পৃথক রাজ্য হলে তেলুগু ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নতি আরও সহজ হবে।

পট্টি শ্রীরামুলুর ভূমিকা:

এই আন্দোলনে পট্টি শ্রীরামুলু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি পৃথক অন্ধ্র রাজ্যের দাবিতে অনশন শুরু করেন। তাঁর অনশন দীর্ঘদিন চলতে থাকে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। কিন্তু তিনি তাঁর দাবি থেকে সরে আসেননি। শেষ পর্যন্ত অনশনরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্ধ্র রাজ্যের প্রতিষ্ঠা:

শ্রীরামুলুর মৃত্যুর সংবাদ অন্ধ্র অঞ্চলে প্রবল জনবিক্ষোভ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে ওঠে। অবশেষে ভারত সরকার পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৫৩ সালে পৃথক অন্ধ্র রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব:

অন্ধ্র রাজ্য গঠনের ঘটনা ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করে। এরপর অন্যান্য ভাষাভাষী অঞ্চলেও পৃথক রাজ্যের দাবি জোরদার হয়। এর ফলেই রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। পরবর্তীকালে ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে ভারতের রাজ্যগুলির সীমানায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। তাই পট্টি শ্রীরামুলুর আত্মত্যাগ ভারতের ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।


৭. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের গঠন, উদ্দেশ্য ও ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন ভাষাভাষী অঞ্চলে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রাজ্যগুলির সীমানা ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করা হয়।

কমিশনের গঠন:

ভারত সরকার ১৯৫৩ সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করে। বিচারপতি ফজল আলি ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি। কে. এম. পানিক্কর এবং এইচ. এন. কুঞ্জরু ছিলেন কমিশনের অন্যান্য সদস্য। কমিশনের কাজ ছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সীমানা ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে সুপারিশ করা।

কমিশনের উদ্দেশ্য:

কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যগুলির সীমানা এমনভাবে পুনর্নির্ধারণ করা যাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়। ভাষাকে রাজ্য পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু ভাষার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের দাবি ও মতামতও কমিশন পর্যালোচনা করে।

কমিশনের ভূমিকা:

কমিশন বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের পৃথক রাজ্যের দাবিগুলি বিচার করে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর কমিশন তার সুপারিশ ভারত সরকারের কাছে পেশ করে। এই সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে যায়।

ফলাফল ও গুরুত্ব:

১৯৫৬ সালে States Reorganisation Act কার্যকর হয়। এই আইনের মাধ্যমে ভারতের বহু রাজ্যের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবির অনেকটাই এই প্রক্রিয়ায় স্বীকৃতি পায়। এর ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন কাঠামো তৈরি হয় এবং আঞ্চলিক পরিচয় ও জাতীয় ঐক্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। তাই রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন স্বাধীন ভারতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।


৮. ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:
১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন স্বাধীন ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। এই আইনের মাধ্যমে ভাষা ও প্রশাসনিক সুবিধার ভিত্তিতে ভারতের রাজ্যগুলির সীমানা ব্যাপকভাবে পুনর্গঠিত হয়।

আইন প্রণয়নের পটভূমি:

স্বাধীনতার পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়। পৃথক অন্ধ্র রাজ্য গঠনের পর এই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে।

আইনের বৈশিষ্ট্য:

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালে States Reorganisation Act কার্যকর হয়। এই আইনের মাধ্যমে ভারতের রাজ্যগুলির সীমানা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়। ভাষাগত বৈশিষ্ট্য রাজ্য পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল। পাশাপাশি প্রশাসনিক সুবিধা ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতার বিষয়ও বিবেচনা করা হয়।

গুরুত্ব:

এই আইনের ফলে বহু ভাষাভাষী অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের সুযোগ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ সহজ হয়। বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির আঞ্চলিক পরিচয় স্বীকৃতি লাভ করে। একই সঙ্গে রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়। এর ফলে আঞ্চলিক দাবিগুলিকে গণতান্ত্রিকভাবে সমাধানের একটি পথ তৈরি হয়।

পরবর্তীকালে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতো রাজ্যের গঠনও এই বৃহত্তর ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। রাজ্য পুনর্গঠন ভারতের প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের ফলে আঞ্চলিক অসন্তোষ অনেকাংশে প্রশমিত হয়। একই সঙ্গে ভারতের জাতীয় ঐক্যও বজায় থাকে। তাই ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইন ভারতের রাজনৈতিক সংহতি ও প্রশাসনিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।


৯. সংযুক্ত মহারাষ্ট্র ও মহাগুজরাট আন্দোলনের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।

উত্তর:
ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবির ধারাবাহিকতায় বোম্বে অঞ্চলেও পৃথক রাজ্যের দাবি দেখা দেয়। মারাঠি ও গুজরাটি ভাষাভাষী মানুষের আন্দোলনের ফলে শেষ পর্যন্ত ১৯৬০ সালে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট পৃথক রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনের কারণ:

স্বাধীনতার পর বোম্বে ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিভাষিক অঞ্চল। এই অঞ্চলে মারাঠি ও গুজরাটি ভাষাভাষী মানুষের বসবাস ছিল। দুই ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। মারাঠিভাষীরা মারাঠিভাষী অঞ্চল নিয়ে পৃথক মহারাষ্ট্র গঠনের দাবি জানায়। অন্যদিকে গুজরাটিরা পৃথক গুজরাট রাজ্যের দাবি জানায়।

সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলন:

মারাঠিভাষী জনগণের পৃথক মহারাষ্ট্রের দাবিকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা ভাষা ও আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি জানায়। তাঁদের ধারণা ছিল, পৃথক রাজ্য হলে প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজ আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

মহাগুজরাট আন্দোলন:

গুজরাটের মানুষও পৃথক গুজরাট রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন মহাগুজরাট আন্দোলন নামে পরিচিত হয়। উভয় আন্দোলনই ধীরে ধীরে শক্তিশালী রাজনৈতিক রূপ লাভ করে এবং কেন্দ্রের ওপর পৃথক রাজ্য গঠনের জন্য চাপ বৃদ্ধি করে।

ফলাফল:

শেষ পর্যন্ত বোম্বে রাজ্যকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৬০ সালে পৃথক মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য গঠিত হয়। এর ফলে দুই ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি অনেকাংশে পূরণ হয়। পৃথক রাজ্যগুলির প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়। এই ঘটনা ভারতের ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের ধারাকে আরও শক্তিশালী করে। তাই সংযুক্ত মহারাষ্ট্র ও মহাগুজরাট আন্দোলন ভারতের আঞ্চলিক ও ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


১০. গোয়ার ভারতভুক্তির ঘটনাটি আলোচনা করো।

উত্তর:
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলেও গোয়া তখনও পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৬১ সালে ভারত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে গোয়াকে পর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্ত করে।

পর্তুগিজ শাসন:

ভারতের স্বাধীনতার সময় গোয়া পর্তুগালের অধীনে ছিল। পর্তুগিজরা দীর্ঘদিন ধরে গোয়া ও ভারতের পশ্চিম উপকূলের কিছু অঞ্চল শাসন করছিল। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর গোয়াকে পর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্ত করার দাবি ওঠে। গোয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যেও পর্তুগিজ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা:

ভারত সরকার গোয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে পর্তুগালের সঙ্গে আলোচনা করে। ভারত সরকার শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিল। কিন্তু পর্তুগাল গোয়া ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি। ফলে কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি। গোয়ার মুক্তি আন্দোলনও ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকে।

অপারেশন বিজয়:

দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ভারত সরকার সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী গোয়ায় অভিযান শুরু করে। এই সামরিক অভিযানের নাম ছিল অপারেশন বিজয়। ভারতীয় স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী অভিযানে অংশগ্রহণ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই পর্তুগিজ বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব:

এর ফলে গোয়া পর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্ত হয় এবং ভারতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসে। গোয়ার মুক্তির মাধ্যমে ভারতের ভূখণ্ডে অবশিষ্ট ঔপনিবেশিক শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটে। এটি ভারতের ভৌগোলিক সংহতি আরও শক্তিশালী করে। স্বাধীনতার পরও যে ঔপনিবেশিক শাসন ভারতের কিছু অংশে টিকে ছিল, গোয়া মুক্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটে। তাই ১৯৬১ সালের গোয়া মুক্তি স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

Article by A SARDAR

Lorem ipsum amet elit morbi dolor tortor. Vivamus eget mollis nostra ullam corper. Natoque tellus semper taciti nostra primis lectus donec tortor fusce morbi risus curae. Semper pharetra montes habitant congue integer nisi.

Leave a Comment