Class 7 Science Chapter 2 Question Answer: পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান/পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিষয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘সময় ও গতি’ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১ নম্বর, ২ নম্বর এবং ৩/৪ নম্বরের প্রশ্নোত্তর এখানে দেওয়া হলো।
এই অধ্যায়ে গতি ও তার বিভিন্ন প্রকার, দূরত্ব ও সরণ, দ্রুতি ও বেগ, ত্বরণ ও মন্দন, কার্য ও শক্তি, নিউটনের গতিসূত্র এবং ঘর্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচের প্রশ্নোত্তরগুলো বারবার অনুশীলন করলে Class 7 Science Chapter 2 ‘সময় ও গতি’ অধ্যায়টি দ্রুত রিভিশন করা সহজ হবে।
সময় ও গতি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এই অধ্যায়ে প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি পড়তে হবে—
- গতি ও স্থিরতা
- গতির বিভিন্ন প্রকার
- চলন গতি ও আবর্ত গতি
- সরলরৈখিক ও বৃত্তাকার গতি
- ঘূর্ণন ও মিশ্র গতি
- দূরত্ব ও সরণ
- দ্রুতি ও বেগ
- ত্বরণ ও মন্দন
- কার্য ও শক্তি
- গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তি
- জাড্য বা জড়তা
- নিউটনের তিনটি গতিসূত্র
- ভর ও জাড্যের সম্পর্ক
- ঘর্ষণ
১ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১. গতি কাকে বলে?
উত্তর: সময়ের সঙ্গে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে গতি বলে।
২. স্থিরতা কাকে বলে?
উত্তর: সময়ের সঙ্গে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না হলে তাকে স্থিরতা বলে।
৩. দ্রুতি কাকে বলে?
উত্তর: একক সময়ে কোনো বস্তু যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে দ্রুতি বলে।
৪. বেগ কাকে বলে?
উত্তর: একক সময়ে নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর সরণকে বেগ বলে।
৫. ত্বরণ কাকে বলে?
উত্তর: সময়ের সঙ্গে বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে।
৬. মন্দন কাকে বলে?
উত্তর: সময়ের সঙ্গে বেগ কমার হারকে মন্দন বলে।
৭. দ্রুতি কী ধরনের রাশি?
উত্তর: দ্রুতি একটি স্কেলার রাশি।
৮. বেগ কী ধরনের রাশি?
উত্তর: বেগ একটি ভেক্টর রাশি।
৯. দূরত্বের SI একক কী?
উত্তর: মিটার (m)।
১০. সময়ের SI একক কী?
উত্তর: সেকেন্ড (s)।
১১. দ্রুতির SI একক কী?
উত্তর: মিটার/সেকেন্ড (m/s)।
১২. ত্বরণের SI একক কী?
উত্তর: মিটার/সেকেন্ড² (m/s²)।
১৩. সরণ কী?
উত্তর: কোনো বস্তুর প্রাথমিক ও চূড়ান্ত অবস্থানের মধ্যে নির্দিষ্ট দিকের সরলরেখীয় দূরত্বকে সরণ বলে।
১৪. সরণ কী ধরনের রাশি?
উত্তর: সরণ একটি ভেক্টর রাশি।
১৫. সরলরৈখিক গতি কী?
উত্তর: সরলরেখা বরাবর বস্তুর গতিকে সরলরৈখিক গতি বলে।
১৬. বৃত্তাকার পথে গতি কী?
উত্তর: বৃত্তাকার পথে কোনো বস্তুর গতিকে বৃত্তাকার পথে গতি বলে।
১৭. ঘূর্ণন গতি কী?
উত্তর: কোনো বস্তু নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরলে তাকে ঘূর্ণন গতি বলে।
১৮. মিশ্র গতি কী?
উত্তর: একই সঙ্গে একাধিক ধরনের গতি সংঘটিত হলে তাকে মিশ্র গতি বলে।
১৯. কার্য কী?
উত্তর: বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর সরণ ঘটলে কার্য সম্পন্ন হয়েছে বলা হয়।
২০. কার্য-এর SI একক কী?
উত্তর: জুল (J)।
২১. শক্তি কাকে বলে?
উত্তর: কার্য করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে।
২২. শক্তির SI একক কী?
উত্তর: জুল (J)।
২৩. গতিশক্তি কী?
উত্তর: কোনো গতিশীল বস্তুর গতির কারণে যে শক্তি থাকে তাকে গতিশক্তি বলে।
২৪. স্থিতিশক্তি কী?
উত্তর: বস্তুর অবস্থান বা আকৃতির কারণে সঞ্চিত শক্তিকে স্থিতিশক্তি বলে।
২৫. জাড্য বা জড়তা কী?
উত্তর: বস্তুর তার বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার ধর্মকে জাড্য বা জড়তা বলে।
২৬. নিউটনের প্রথম গতিসূত্র কী নামে পরিচিত?
উত্তর: জাড্যের সূত্র।
২৭. নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র কী?
উত্তর: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।
২৮. বলের SI একক কী?
উত্তর: নিউটন (N)।
২৯. ঘর্ষণ কী?
উত্তর: দুটি সংস্পর্শে থাকা তলের মধ্যে আপেক্ষিক গতির বিরোধিতা করে যে বল, তাকে ঘর্ষণ বল বলে।
৩০. ঘর্ষণ কোন ধরনের বল?
উত্তর: সংস্পর্শ বল।
৩১. ঘর্ষণ কমাতে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: তেল বা গ্রিজ ব্যবহার করা হয়।
৩২. গাড়ির টায়ারে খাঁজ কাটা থাকে কেন?
উত্তর: টায়ার ও রাস্তার মধ্যে ঘর্ষণ বাড়ানোর জন্য।
৩৩. ঘূর্ণায়মান বৈদ্যুতিক পাখার গতি কী ধরনের?
উত্তর: ঘূর্ণন গতি।
৩৪. চলন্ত গাড়ির চাকার গতি কী ধরনের?
উত্তর: মিশ্র গতি—চলন ও ঘূর্ণন উভয়ই।
৩৫. স্থির বস্তুর বেগ কত?
উত্তর: শূন্য।
৩৬. দ্রুতি নির্ণয়ের সূত্র কী?
উত্তর: দ্রুতি = অতিক্রান্ত দূরত্ব ÷ সময়।
৩৭. কাজ করার সামর্থ্যকে কী বলে?
উত্তর: শক্তি।
৩৮. চলন্ত বস্তুর মধ্যে কোন শক্তি থাকে?
উত্তর: গতিশক্তি।
৩৯. উঁচুতে রাখা বস্তুর মধ্যে কোন শক্তি থাকে?
উত্তর: স্থিতিশক্তি।
৪০. ১ m/s বলতে কী বোঝ?
উত্তর: কোনো বস্তু ১ সেকেন্ডে ১ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করলে তার দ্রুতি ১ m/s।
২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১. গতি ও স্থিরতার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
যদি সময়ের সঙ্গে কোনো বস্তুর অবস্থান পরিবর্তিত হয়, তবে বস্তুটি গতিশীল। আর সময়ের সঙ্গে অবস্থানের পরিবর্তন না হলে বস্তুটি স্থির।
২. চলন গতি ও আবর্ত গতির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
কোনো বস্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অগ্রসর হলে তা চলন গতি। কোনো বস্তু নির্দিষ্ট অক্ষ বা কেন্দ্রকে ঘিরে ঘুরলে তা আবর্ত/ঘূর্ণন গতির উদাহরণ।
৩. সরলরৈখিক গতির একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:
সরল রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ির চলা সরলরৈখিক গতির উদাহরণ।
৪. ঘূর্ণন গতির দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:
১. বৈদ্যুতিক পাখার ব্লেডের ঘোরা।
২. নিজের অক্ষের চারদিকে লাটুর ঘোরা।
৫. মিশ্র গতি কী? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:
একটি বস্তুর মধ্যে একই সময়ে একাধিক ধরনের গতি থাকলে তাকে মিশ্র গতি বলে। চলন্ত গাড়ির চাকার গতি চলন ও ঘূর্ণনের সমন্বয়, তাই এটি মিশ্র গতির উদাহরণ।
৬. দূরত্ব ও সরণের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
১. দূরত্বের শুধু মান আছে, কিন্তু সরণের মান ও দিক উভয়ই আছে।
২. দূরত্ব স্কেলার রাশি, কিন্তু সরণ ভেক্টর রাশি।
৭. দ্রুতি ও বেগের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
দ্রুতি একক সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্বের হার। বেগ একক সময়ে নির্দিষ্ট দিকে সরণের হার। দ্রুতি স্কেলার এবং বেগ ভেক্টর রাশি।
৮. ত্বরণ ও মন্দনের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
সময়ের সঙ্গে বেগ বাড়ার হারকে ত্বরণ বলে। সময়ের সঙ্গে বেগ কমার হারকে মন্দন বলে।
৯. জাড্য কী? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:
কোনো বস্তু তার বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে চায়—এই ধর্মকে জাড্য বলে। বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন—এটি জাড্যের উদাহরণ।
১০. বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পিছনে হেলে পড়েন কেন?
উত্তর:
বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীদের পা বাসের সঙ্গে এগিয়ে যায়, কিন্তু শরীরের উপরিভাগ স্থির থাকতে চায়। স্থিতির জাড্যের কারণে তাঁরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন।
১১. বাস হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীরা সামনে ঝুঁকে পড়েন কেন?
উত্তর:
বাস থেমে গেলেও যাত্রীদের শরীরের উপরিভাগ গতিশীল থাকতে চায়। গতির জাড্যের কারণে তাঁরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
১২. নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রটি লেখো।
উত্তর:
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।
১৩. নৌকা থেকে ডাঙায় লাফ দিলে নৌকা পিছনের দিকে সরে যায় কেন?
উত্তর:
ডাঙায় লাফ দেওয়ার সময় ব্যক্তি নৌকার উপর বল প্রয়োগ করেন। ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী নৌকা বিপরীত দিকে বল পায় এবং পিছনের দিকে সরে যায়।
১৪. ঘর্ষণের দুটি উপকারিতা লেখো।
উত্তর:
১. ঘর্ষণের জন্য আমরা মাটিতে হাঁটতে পারি।
২. ঘর্ষণের সাহায্যে গাড়ির ব্রেক কাজ করে।
১৫. ঘর্ষণের দুটি অপকারিতা লেখো।
উত্তর:
১. ঘর্ষণের ফলে যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
২. ঘর্ষণের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় এবং শক্তির অপচয় ঘটে।
১৬. ঘর্ষণ কমানোর দুটি উপায় লেখো।
উত্তর:
১. তেল বা গ্রিজ ব্যবহার করা।
২. বল-বিয়ারিং ব্যবহার করা।
১৭. ঘর্ষণ বাড়ানোর দুটি উপায় লেখো।
উত্তর:
১. তলের উপর খাঁজ বা অসমতলতা তৈরি করা।
২. রুক্ষ তল ব্যবহার করা।
১৮. গাড়ির টায়ারে খাঁজ কাটা থাকে কেন?
উত্তর:
টায়ার ও রাস্তার মধ্যে ঘর্ষণ বাড়ানোর জন্য টায়ারে খাঁজ কাটা হয়। ফলে গাড়ি সহজে পিছলে যায় না এবং নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
১৯. কাজ ও শক্তির সম্পর্ক কী?
উত্তর:
কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। কোনো বস্তুর উপর কার্য সম্পন্ন হলে তার শক্তির পরিবর্তন ঘটতে পারে। কাজ ও শক্তি উভয়ের SI একক জুল।
২০. গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
গতির কারণে যে শক্তি থাকে তা গতিশক্তি। আর অবস্থান বা আকৃতির কারণে সঞ্চিত শক্তি হলো স্থিতিশক্তি। চলন্ত গাড়ির গতিশক্তি এবং উঁচুতে রাখা পাথরের স্থিতিশক্তি আছে।
২১. বল প্রয়োগ করেও কখন কার্য হয় না?
উত্তর:
কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করা হলেও যদি বস্তুর কোনো সরণ না ঘটে, তাহলে কার্য হয় না। যেমন—দেয়ালকে জোরে ঠেললেও দেয়াল না সরলে দেয়ালের উপর কার্য হয় না।
২২. ভর ও জাড্যের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর:
বস্তুর ভর যত বেশি হয়, তার জাড্যও তত বেশি হয়। তাই ভরকে জাড্যের পরিমাপক বলা হয়।
২৩. সমবেগ ও অসমবেগ কী?
উত্তর:
কোনো বস্তু সমান সময়ে সমান সরণ একই দিকে করলে তার গতি সমবেগ। সমান সময়ে অসমান সরণ করলে বা গতির দিক পরিবর্তিত হলে গতি অসমবেগ।
২৪. মন্দনকে ঋণাত্মক ত্বরণ বলা হয় কেন?
উত্তর:
ত্বরণের ক্ষেত্রে বেগ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু মন্দনের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে বেগ কমে যায়। তাই ত্বরণের বিপরীত প্রকৃতির হওয়ায় মন্দনকে ঋণাত্মক ত্বরণ বলা হয়।
২৫. সিটবেল্ট ব্যবহার করা হয় কেন?
উত্তর:
গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীর শরীর গতির জাড্যের কারণে সামনের দিকে যেতে চায়। সিটবেল্ট যাত্রীকে আটকে রেখে আঘাতের সম্ভাবনা কমায়।
৩/৪ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১. গতির বিভিন্ন প্রকার উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর:
বস্তুর গতিপথ ও গতির প্রকৃতি অনুসারে বিভিন্ন ধরনের গতি দেখা যায়।
১. সরলরৈখিক গতি: সরলরেখা বরাবর গতি।
উদাহরণ—সোজা রাস্তায় গাড়ির চলা।
২. বৃত্তাকার পথে গতি: বৃত্তাকার পথে গতি।
উদাহরণ—ঘড়ির কাঁটার অগ্রভাগের গতি।
৩. ঘূর্ণন গতি: নিজের অক্ষের চারদিকে ঘোরা।
উদাহরণ—বৈদ্যুতিক পাখার ব্লেডের গতি।
৪. মিশ্র গতি: একই সঙ্গে একাধিক ধরনের গতি।
উদাহরণ—চলন্ত গাড়ির চাকার গতি।
২. দূরত্ব ও সরণের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
| দূরত্ব | সরণ |
|---|---|
| বস্তু মোট যে পথ অতিক্রম করে তাকে দূরত্ব বলে। | প্রাথমিক ও চূড়ান্ত অবস্থানের মধ্যে নির্দিষ্ট দিকের সরলরেখীয় দূরত্বকে সরণ বলে। |
| এটি স্কেলার রাশি। | এটি ভেক্টর রাশি। |
| এর শুধু মান আছে। | এর মান ও দিক আছে। |
| দূরত্ব শূন্য না-ও হতে পারে যখন বস্তু চলেছে। | বস্তু আবার প্রাথমিক অবস্থানে ফিরে এলে সরণ শূন্য হতে পারে। |
৩. দ্রুতি ও বেগের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
দ্রুতি:
কোনো বস্তু একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে দ্রুতি বলে। এটি স্কেলার রাশি।
বেগ:
কোনো বস্তু একক সময়ে নির্দিষ্ট দিকে যে সরণ করে তাকে বেগ বলে। এটি ভেক্টর রাশি।
দ্রুতির ক্ষেত্রে দিক বিবেচনা করা হয় না, কিন্তু বেগের ক্ষেত্রে দিক গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ত্বরণ ও মন্দন উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
সময়ের সঙ্গে কোনো বস্তুর বেগ পরিবর্তিত হলে ত্বরণ সৃষ্টি হয়।
বেগ যদি সময়ের সঙ্গে বাড়ে, তাকে ত্বরণ বলা হয়। যেমন—স্থির অবস্থা থেকে গাড়ি দ্রুত চলতে শুরু করা।
বেগ যদি সময়ের সঙ্গে কমে, তাকে মন্দন বলা হয়। যেমন—চলন্ত গাড়িতে ব্রেক চাপলে গাড়ির বেগ কমে যায়।
৫. নিউটনের প্রথম গতিসূত্রটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
নিউটনের প্রথম গতিসূত্র অনুযায়ী, বাইরে থেকে কোনো অসম ভারসাম্যকারী বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু একই বেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
এই সূত্র থেকে বস্তুর জাড্য বা জড়তার ধারণা পাওয়া যায়। তাই নিউটনের প্রথম গতিসূত্রকে জাড্যের সূত্র বলা হয়।
৬. জাড্য কী? জাড্যের দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর:
কোনো বস্তু তার বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে চায়। বস্তুর এই ধর্মকে জাড্য বা জড়তা বলে।
উদাহরণ:
১. বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন।
২. চলন্ত বাস হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
৭. নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।
যেমন—
- বন্দুক থেকে গুলি ছুড়লে গুলি সামনে যায় এবং বন্দুক পিছনের দিকে ধাক্কা খায়।
- নৌকা থেকে ডাঙায় লাফ দিলে নৌকা বিপরীত দিকে সরে যায়।
- রকেট থেকে গ্যাস পিছনের দিকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে রকেট সামনে এগিয়ে যায়।
৮. নৌকা থেকে ডাঙায় লাফ দিলে নৌকা পিছনে সরে যায় কেন?
উত্তর:
ডাঙায় লাফ দেওয়ার সময় ব্যক্তি নৌকার উপর একটি বল প্রয়োগ করেন। এটি ক্রিয়া।
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী নৌকা ব্যক্তির উপর সমান মানের বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে। ফলে নৌকা পিছনের দিকে সরে যায়।
৯. ঘর্ষণ কী? ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।
উত্তর:
দুটি সংস্পর্শে থাকা তলের মধ্যে আপেক্ষিক গতির বিরোধিতা করে যে বল, তাকে ঘর্ষণ বল বলে।
সুবিধা:
১. ঘর্ষণের জন্য আমরা হাঁটতে পারি।
২. ঘর্ষণের সাহায্যে গাড়ির ব্রেক কাজ করে।
অসুবিধা:
১. যন্ত্রের অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
২. তাপ উৎপন্ন হয়ে শক্তির অপচয় হয়।
১০. ঘর্ষণ কমানোর উপায়গুলি লেখো।
উত্তর:
ঘর্ষণ কমানোর কয়েকটি উপায় হল—
১. যন্ত্রের চলন্ত অংশে তেল বা গ্রিজ ব্যবহার করা।
২. বল-বিয়ারিং ব্যবহার করা।
৩. সংস্পর্শস্থলকে মসৃণ করা।
এর ফলে ঘর্ষণ কমে এবং যন্ত্রের ক্ষয় ও শক্তির অপচয় কম হয়।
১১. ঘর্ষণ বাড়ানো কখন প্রয়োজন? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর:
যেখানে বস্তুকে পিছলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে হয়, সেখানে ঘর্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।
উদাহরণ:
১. গাড়ির টায়ারে খাঁজ কাটা হয়।
২. জুতোর তলায় নকশা বা খাঁজ থাকে।
৩. ভেজা রাস্তায় বালি ছড়ালে ঘর্ষণ বৃদ্ধি পায়।
১২. কার্য ও শক্তি বলতে কী বোঝ? তাদের SI একক লেখো।
উত্তর:
কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগের ফলে যদি বস্তুর সরণ ঘটে, তাহলে বলা হয় বল দ্বারা কার্য সম্পন্ন হয়েছে।
শক্তি হলো কার্য করার সামর্থ্য।
কার্য ও শক্তি উভয়ের SI একক হলো জুল (J)।
১৩. গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
গতিশক্তি: গতিশীল বস্তুর গতির কারণে যে শক্তি থাকে তাকে গতিশক্তি বলে।
উদাহরণ—চলন্ত গাড়ি, চলন্ত সাইকেল।
স্থিতিশক্তি: বস্তুর অবস্থান বা আকৃতির কারণে সঞ্চিত শক্তিকে স্থিতিশক্তি বলে।
উদাহরণ—উঁচুতে রাখা পাথর, টানটান করা ধনুক।
১৪. বাস হঠাৎ চলা শুরু করলে ও হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীদের কী হয়? কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
বাস হঠাৎ চলা শুরু করলে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন। কারণ তাঁদের শরীর স্থির অবস্থায় থাকতে চায়। এটি স্থিতির জাড্যের ফল।
আবার চলন্ত বাস হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ তাঁদের শরীর গতিশীল অবস্থায় থাকতে চায়। এটি গতির জাড্যের ফল।
১৫. গাড়ির চাকার গতি মিশ্র গতি কেন?
উত্তর:
চলন্ত গাড়ির চাকা একই সঙ্গে দুটি গতি করে—
১. চাকার কেন্দ্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এগিয়ে যায়—এটি চলন গতি।
২. চাকা নিজের অক্ষের চারদিকে ঘোরে—এটি ঘূর্ণন গতি।
তাই চলন্ত গাড়ির চাকার গতি একটি মিশ্র গতি।
১৬. ভর ও জাড্যের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
বস্তুর ভর যত বেশি হয়, তার জাড্যও তত বেশি হয়। অর্থাৎ ভারী বস্তুর গতির অবস্থা পরিবর্তন করা হালকা বস্তুর তুলনায় কঠিন।
তাই ভরকে জাড্যের পরিমাপক বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, একটি খালি ঠেলাগাড়ির তুলনায় ভারী মাল বোঝাই ঠেলাগাড়িকে ঠেলা বা থামানো বেশি কঠিন।
১৭. একটি বস্তুর দ্রুতি কীভাবে নির্ণয় করা হয়? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর:
দ্রুতি নির্ণয়ের সূত্র—
দ্রুতি = অতিক্রান্ত দূরত্ব ÷ সময়
উদাহরণ: একটি গাড়ি ২ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলে,
দ্রুতি = ১০০ ÷ ২
= ৫০ কিমি/ঘণ্টা।
অতএব, গাড়িটির গড় দ্রুতি ৫০ কিমি/ঘণ্টা।
১৮. কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করেও কখন কার্য সম্পন্ন হয় না?
উত্তর:
কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করা হলেও যদি বস্তুর সরণ না ঘটে, তাহলে কার্য সম্পন্ন হয় না।
যেমন, একজন ব্যক্তি একটি শক্ত দেয়ালকে যতই জোরে ঠেলুন না কেন, দেয়াল যদি স্থান পরিবর্তন না করে, তবে দেয়ালের উপর যান্ত্রিক কার্য সম্পন্ন হয় না।
পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
নিচের প্রশ্নগুলো বিশেষভাবে ভালোভাবে প্রস্তুত করা উচিত—
- গতি ও গতির বিভিন্ন প্রকার উদাহরণসহ লেখো।
- দূরত্ব ও সরণের পার্থক্য লেখো।
- দ্রুতি ও বেগের পার্থক্য লেখো।
- ত্বরণ ও মন্দন ব্যাখ্যা করো।
- জাড্য কী? উদাহরণ দাও।
- বাস হঠাৎ চললে বা থামলে যাত্রীরা কেন হেলে পড়েন?
- নিউটনের প্রথম গতিসূত্র ব্যাখ্যা করো।
- নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র উদাহরণসহ লেখো।
- নৌকা থেকে ডাঙায় লাফ দিলে নৌকা পিছনে সরে যায় কেন?
- ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।
- ঘর্ষণ কমানোর উপায় লেখো।
- গাড়ির টায়ারে খাঁজ থাকে কেন?
- কার্য ও শক্তি কী?
- গতিশক্তি ও স্থিতিশক্তি ব্যাখ্যা করো।
- ভর ও জাড্যের সম্পর্ক লেখো।
- চলন্ত গাড়ির চাকার গতি মিশ্র গতি কেন?
Frequently Asked Questions (FAQ)
১. Class 7 Science Chapter 2-এর নাম কী?
উত্তর: ‘সময় ও গতি’।
২. সময় ও গতি অধ্যায়ে কী কী পড়ানো হয়েছে?
উত্তর: গতি, গতির প্রকারভেদ, দূরত্ব, সরণ, দ্রুতি, বেগ, ত্বরণ, মন্দন, কার্য, শক্তি, জাড্য, নিউটনের গতিসূত্র এবং ঘর্ষণ প্রভৃতি।
৩. দ্রুতির SI একক কী?
উত্তর: মিটার/সেকেন্ড (m/s)।
৪. বেগ কী ধরনের রাশি?
উত্তর: বেগ ভেক্টর রাশি।
৫. শক্তির SI একক কী?
উত্তর: জুল (J)।
৬. ঘর্ষণ কমানোর একটি উপায় কী?
উত্তর: তেল বা গ্রিজ ব্যবহার করা।
৭. নিউটনের প্রথম গতিসূত্র কী নামে পরিচিত?
উত্তর: জাড্যের সূত্র।
৮. নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র কী?
উত্তর: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।
উপসংহার
Class 7 Science Chapter 2 ‘সময় ও গতি’ পরীক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে দূরত্ব ও সরণ, দ্রুতি ও বেগ, ত্বরণ ও মন্দন, জাড্য, নিউটনের গতিসূত্র, কার্য-শক্তি এবং ঘর্ষণ ভালোভাবে বুঝে পড়া উচিত।
উপরের ১ নম্বর, ২ নম্বর এবং ৩/৪ নম্বরের প্রশ্নোত্তর নিয়মিত অনুশীলন করলে সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও সহজ হবে।
🔗 আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
WBBSE Class 9 History Chapter 7 — ‘জাতিসংঘ এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ’-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, MCQ ও সম্ভাব্য প্রশ্ন পড়ুন → [জাতিসংঘ এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রশ্ন উত্তর]